ঢাকা, শনিবার, জানুয়ারী ২০, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা : ওবায়দুল কাদের * সুযোগ তৈরি করে দিলে তরুণ প্রজন্ম সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে : স্পিকার   |   রাষ্ট্রপতি : রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদনের গুণগতমান নিশ্চিত করুন : রাষ্ট্রপতি   |    অর্থনীতি : প্রত্যেক জেলায় ত্রাণ গুদাম নির্মাণ করা হবে   |   বিনোদন ও শিল্পকলা : ষোড়শ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামলো * আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হলো কোরীয় ছবি জার্নি ইনটু দ্যা ড্রিম    |   শিক্ষা : উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে : নাহিদ   |    বিভাগীয় সংবাদ : মেহেরপুরে ৯ রাতব্যাপী যাত্রা উৎসব শুরু * নড়াইলে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে পানি শোধনাগার * শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ৬টি উপজেলা   |    জাতীয় সংবাদ : শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষার চর্চা করুন : ইনু * রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় আরো সহায়তা প্রয়োজন : বিশ্বব্যাংক * বিএনপির কোন নীতি আদর্শ নেই : তোফায়েল *বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরী মোনাজাত আগামীকাল    |   খেলাধুলার সংবাদ : মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগামীকাল মুখোমুখি জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকা *যুব বিশ্বকাপ : কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত *বিএসপিএ নির্বাচনে মামুন সভাপতি-আনন্দ সাধারণ সম্পাদক   |   আবহাওয়া : নড়াইলে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে পানি শোধনাগার   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : অচলাবস্থার মুখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার * ফিলিপাইনে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ৭ * তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১১, আহত ৪৬ *নাইজারে বোকো হারামের হামলায় ৭ সৈন্য নিহত * সিউলে মোটেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় ৫ জনের মৃত্যু   |   

দুগ্ধ খামার বদলে দিয়েছে জয়পুরহাটের আমিরুলের জীবন

জয়পুরহাট, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ (বাসস) : টাকার অভাবে পড়ালেখা করতে পারেননি। এক সময় তিন বেলা ঠিক মত খাবারও জুটতো না। নিজের হাতকে কর্মীর হাতে পরিণত করার সেই অসাধ্য সাধন করেছেন কালাই উপজেলার এক ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারী আমিরুল ইসলাম। তিনি এখন দৈনিক প্রায় ৪০ লিটার দুধ বিক্রির আয় দিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন। মাথা গোঁজার জায়গা না থাকলেও বাড়ি করার জন্য ১২ শতাংশ ও আবাদি জমি কিনেছেন ৫০ শতাংশ। এ ছাড়াও ৬ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন নানা ফসল। সংসারে বর্তমানে কোন অভাব নেই আমিরুলের।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার দুরুঞ্জ গ্রামের আব্দুল মোমেনের ছেলে আমিরুল ইসলাম জানান, বাবা- মায়ের পাঁচ সন্তানের সংসারে অভাব অনটনের কারণে তৃতীয় শ্রেণীতেই লেখাপড়া থেমে যায়। শিশু বয়সেই বাবার সাথে ধরতে হয় সংসারের হাল। এমনই এক পরিস্থিতিতে কম বয়সে বিয়ে করলে শুরু হয় জীবনের আরেক যুদ্ধ। তিন বেলা খাবার জোগার করতেই যেখানে হিমশিম, সেখানে সংসারের বোঝা আরও কঠিন হয়ে পড়ে । নিজের কষ্টের জমানো কিছু টাকা দিয়ে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে দুই/এক মণ ধান কিনে বাড়িতে এনে সিদ্ধ-শুকান করে চাল তৈরি করেন। আর সেই চাল আবার বিভিন্ন হাট-বাজরে বিক্রি করে, যা আয় হত তা দিয়ে কোন মতে চলতো সংসারের খরচ। এরমধ্যেই তাদের সংসারে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। এমন এক সময় অন্যের বাড়িতে টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখার মাধ্যমে জানতে পারেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম সম্পর্কে। পরে তিনি কালাই উপজেলা কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুটি গাভী কিনে দুগ্ধ খামারের কার্যক্রম শুরু করেন ২০০০ সালে। এরপর ৮০ হাজার এবং বর্তমানে ঋণের পরিমান হচ্ছে দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে চারটি সংকর জাতের গাভী রয়েছে খামারে। এ দুগ্ধ খামারের আয় থেকে সংসারের পরিবর্তন শুরু হয়। কিনেন ১২ শতাংশ বাড়ি করার জায়গা এবং ধানি জমি ৫০ শতাংশ । পাশাপাশি ৬ বিঘা জমিও বর্গা নেন। ধান চাষের পাশাপাশি সবজি চাষের বিষয়ে মনোযোগ দেন তিনি। স্ত্রী ও শুরু করেন হাসঁ, মুরগী, ছাগল ও পভড়া পালন। বর্তমান তাদের সংসারে কোন অভাব নেই। বড় ছেলে বেসরকারি স্কুলে নবম শ্রেণীতে এবং মেয়ে মাদ্রাসা লাইনে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। তিনি ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনার খরচ সহ সংসারে অনেক জিনিস পত্রও কিনেছেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০ লিটার দুধ বাজারে বিক্রি করেন প্রায় ১৬শ টাকা। তার পরিবারের সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন তিনি আয় করেন প্রায় এক হাজার টাকা। এছাড়া খামারে থাকা গরুর বর্তমান বাজার মূল্যও প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।
অতীতের কথা স্মরণ করে আমিরুল ইসলাম বলেন, দুগ্ধ খামার দিয়ে এখন আমার সংসার আগের চেয়ে অনেক ভালো। আমার সংসারের সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন গাভীর দুধ বিক্রি করে আয় করছি প্রায় এক হাজার টাকা। যে কোন মানুষ তার শ্রম আর দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে দারিদ্রতাকে জয় করতে পারে বলে মনে করেন আমিরুল ইসলাম।
কালাই শাখা কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওবাইদুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের সহযোগিতা গ্রহণ করে দুগ্ধ খামার দিয়ে আমিরুল ইসলাম দারিদ্রতাকে জয় করেছেন । দুগ্ধ খামার পরিচালনা করার জন্য আমিরুল ইসলামকে সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে বলে বাসসকে জানান, কালাই উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জহুরুল ইসলাম ।
বাসস/সংবাদদাতা/কেইউ/১০১০/নূসী

বাজিস-২
পঞ্চগড়-আমনের বাম্পার
পঞ্চগড়ে আমনের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের
পঞ্চগড়, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বাসস) : জেলায় আমন ক্ষেতে দোল খাচ্ছে সবুজ ধান গাছ জুড়ে মাঠে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। অথচ আজ থেকে এক মাস আগে কৃষকরা ভাবতেও পারেনি এই মৌসুমে তারা ক্ষেতে আমন ধান আবাদ করতে পারবেন। দেরীতে বৃষ্টি হলেও জমিতে চারা লাগিয়ে সকল বাধা কাটিয়ে তারা এখন আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছে।
পঞ্চগড়ের কৃষকদের প্রাণ, প্রকৃতি নির্ভর আমন ধান। তুলনামুলকভাবে উচু জমি এবং মাটিতে বালুর পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখানে সেচ নির্ভর বোরো ধান অন্যান্য জেলার চেয়ে কম আবাদ হয়। তাই একমাত্র ভরসা আমন ধান। এই আমন ধান কৃষকের সারা বছরের খাবারসহ পরিবারের খরচের যোগান দেয়। আদিকাল থেকে চলে আসছে এই নিয়ম। কিন্তু প্রকৃতি এবার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সময়মত বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টির অভাবে আমন চাষ নিয়ে শঙ্কায় পড়ে কৃষকেরা। অতিরিক্তি টাকা খরচ করে অনেক সামর্থ্যবান কৃষক সেচ দিয়ে জমিতে আমন চারা রোপণ করে। বৃষ্টি না হওয়ায় চারা রোপনের পরেও জমিতে সেচ দিতে হয়।
এরপর আগস্টের শুরুতে প্রকৃতি আবারও মানুষের সহায় হয়। অঝোর ধারার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় মাঠ-ঘাট। আগে লাগানো এবং নদী পাড়ের নীচু এলাকার অনেক আমন ক্ষেত পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাময়িক বন্যা দেখা দিলেও বৃষ্টি কমে গিয়ে পানি সরে যায়। কৃষকেরা তৈরি ক্ষেতে পুরোদমে আমন চারা লাগাতে শুরু করে। সেই থেকে কিছুদিন পর পর বৃষ্টি হচ্ছে। আর কয়েকদিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করলে এবারও আমনের বাম্পার ফলন হবে আশা করছে কৃষকেরা।
পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বেংহারি গ্রামের কৃষক দারাজ উদ্দীন জানান, এবার আমি ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত করেছিলাম। বীজতলায় চারাও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে জমিতে চারা লাগাতে পারিনি। বৃষ্টি হওয়া মাত্রই জমিতে চারা লাগিয়েছি। প্রয়োজনীয় সকল সার ও কীটনাশক দিয়েছ্ িএকমাসের মধ্যেই সবুজে ভরে গেছে আমন ক্ষেত। তিনি বলেন , এখনও জমিতে পানি জমে আছে, মাঝে মধ্যে বৃষ্টিও হচ্ছে। আর দুই-তিন সপ্তাহ এমন আবহাওয়া বিরাজ করলে পূর্ববর্তী বছরের মতই আমন ধান ঘরে তুলতে পারব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বাসসকে বলেন, চলতি আমন মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় ৯৬ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মৌসুমের শেষে বৃষ্টিতে শেষ পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১৬৫ হেক্টর বেশি। তিনি আরও বলেন, গত মাসের বন্যায় এখানে ২৬১ হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানি সরে যাওয়ায় সেই ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতেও নতুন করে চারা লাগানো হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন।