ঢাকা, শনিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে জোর দিতে হবে : সংস্কৃতি মন্ত্রী   |    অর্থনীতি : মুম্বাইয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড এক্সপোতে বাংলাদেশে অংশগ্রহণ * ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে ২৪০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন   |    জাতীয় সংবাদ : নাগরিক সমাবেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চ * যক্ষ্মা নির্মূলে আঞ্চলিক কমিটি গঠনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর * প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে নতুন সংগঠন ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যালায়েন্স অন এসডিজিস   |    জাতীয় সংবাদ : আগামীকালের নাগরিক সমাবেশ কোন রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নয় : ওবায়দুল কাদের * নির্বাচনের নামে সন্ত্রাস করলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার আহবান আইনমন্ত্রীর * যতদিন জাতির পিতা ও স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করবে না, ততদিন বিএনপি বিপজ্জনক রাজনৈতিক সংগঠন : তথ্যমন্ত্রী   |   বিনোদন ও শিল্পকলা : লিট ফেস্টে লাঠিখেলা, মুগ্ধ দর্শক * মানুষের ভেতরের শক্তিকে আবিস্কার করার ক্ষমতা ছিল হুমায়ূন আহমেদের   |    বিভাগীয় সংবাদ : বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যামার মাওয়ায় * রংপুরে দুদিনব্যাপী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক সম্মেলন শেষ * মেঘনায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবে ১ জেলে নিহত, নিখোঁজ-২ * টঙ্গীতে ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা শুরু   |   খেলাধুলার সংবাদ : বিপিএল : জাকির-মোমিনুলের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সিলেটকে হারালো রাজশাহী *চিটাগং ভাইকিংসকে ৫ উইকেটে হারালো খুলনা *কাল মাঠে নামছেন গেইল-ম্যাককালাম   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : দুর্নীতির দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক দুই গোয়েন্দা প্রধান গ্রেপ্তার * রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি জাতিসংঘের আহবান * কাতালানের সাবেক নেতাকে দেশে ফেরানোর কথা ভাবছে বেলজিয়ামের আদালত   |   

দুগ্ধ খামার বদলে দিয়েছে জয়পুরহাটের আমিরুলের জীবন

জয়পুরহাট, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ (বাসস) : টাকার অভাবে পড়ালেখা করতে পারেননি। এক সময় তিন বেলা ঠিক মত খাবারও জুটতো না। নিজের হাতকে কর্মীর হাতে পরিণত করার সেই অসাধ্য সাধন করেছেন কালাই উপজেলার এক ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারী আমিরুল ইসলাম। তিনি এখন দৈনিক প্রায় ৪০ লিটার দুধ বিক্রির আয় দিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন। মাথা গোঁজার জায়গা না থাকলেও বাড়ি করার জন্য ১২ শতাংশ ও আবাদি জমি কিনেছেন ৫০ শতাংশ। এ ছাড়াও ৬ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন নানা ফসল। সংসারে বর্তমানে কোন অভাব নেই আমিরুলের।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার দুরুঞ্জ গ্রামের আব্দুল মোমেনের ছেলে আমিরুল ইসলাম জানান, বাবা- মায়ের পাঁচ সন্তানের সংসারে অভাব অনটনের কারণে তৃতীয় শ্রেণীতেই লেখাপড়া থেমে যায়। শিশু বয়সেই বাবার সাথে ধরতে হয় সংসারের হাল। এমনই এক পরিস্থিতিতে কম বয়সে বিয়ে করলে শুরু হয় জীবনের আরেক যুদ্ধ। তিন বেলা খাবার জোগার করতেই যেখানে হিমশিম, সেখানে সংসারের বোঝা আরও কঠিন হয়ে পড়ে । নিজের কষ্টের জমানো কিছু টাকা দিয়ে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে দুই/এক মণ ধান কিনে বাড়িতে এনে সিদ্ধ-শুকান করে চাল তৈরি করেন। আর সেই চাল আবার বিভিন্ন হাট-বাজরে বিক্রি করে, যা আয় হত তা দিয়ে কোন মতে চলতো সংসারের খরচ। এরমধ্যেই তাদের সংসারে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। এমন এক সময় অন্যের বাড়িতে টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখার মাধ্যমে জানতে পারেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম সম্পর্কে। পরে তিনি কালাই উপজেলা কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুটি গাভী কিনে দুগ্ধ খামারের কার্যক্রম শুরু করেন ২০০০ সালে। এরপর ৮০ হাজার এবং বর্তমানে ঋণের পরিমান হচ্ছে দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে চারটি সংকর জাতের গাভী রয়েছে খামারে। এ দুগ্ধ খামারের আয় থেকে সংসারের পরিবর্তন শুরু হয়। কিনেন ১২ শতাংশ বাড়ি করার জায়গা এবং ধানি জমি ৫০ শতাংশ । পাশাপাশি ৬ বিঘা জমিও বর্গা নেন। ধান চাষের পাশাপাশি সবজি চাষের বিষয়ে মনোযোগ দেন তিনি। স্ত্রী ও শুরু করেন হাসঁ, মুরগী, ছাগল ও পভড়া পালন। বর্তমান তাদের সংসারে কোন অভাব নেই। বড় ছেলে বেসরকারি স্কুলে নবম শ্রেণীতে এবং মেয়ে মাদ্রাসা লাইনে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। তিনি ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনার খরচ সহ সংসারে অনেক জিনিস পত্রও কিনেছেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০ লিটার দুধ বাজারে বিক্রি করেন প্রায় ১৬শ টাকা। তার পরিবারের সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন তিনি আয় করেন প্রায় এক হাজার টাকা। এছাড়া খামারে থাকা গরুর বর্তমান বাজার মূল্যও প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।
অতীতের কথা স্মরণ করে আমিরুল ইসলাম বলেন, দুগ্ধ খামার দিয়ে এখন আমার সংসার আগের চেয়ে অনেক ভালো। আমার সংসারের সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন গাভীর দুধ বিক্রি করে আয় করছি প্রায় এক হাজার টাকা। যে কোন মানুষ তার শ্রম আর দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে দারিদ্রতাকে জয় করতে পারে বলে মনে করেন আমিরুল ইসলাম।
কালাই শাখা কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওবাইদুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের সহযোগিতা গ্রহণ করে দুগ্ধ খামার দিয়ে আমিরুল ইসলাম দারিদ্রতাকে জয় করেছেন । দুগ্ধ খামার পরিচালনা করার জন্য আমিরুল ইসলামকে সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে বলে বাসসকে জানান, কালাই উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জহুরুল ইসলাম ।
বাসস/সংবাদদাতা/কেইউ/১০১০/নূসী

বাজিস-২
পঞ্চগড়-আমনের বাম্পার
পঞ্চগড়ে আমনের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের
পঞ্চগড়, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বাসস) : জেলায় আমন ক্ষেতে দোল খাচ্ছে সবুজ ধান গাছ জুড়ে মাঠে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। অথচ আজ থেকে এক মাস আগে কৃষকরা ভাবতেও পারেনি এই মৌসুমে তারা ক্ষেতে আমন ধান আবাদ করতে পারবেন। দেরীতে বৃষ্টি হলেও জমিতে চারা লাগিয়ে সকল বাধা কাটিয়ে তারা এখন আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছে।
পঞ্চগড়ের কৃষকদের প্রাণ, প্রকৃতি নির্ভর আমন ধান। তুলনামুলকভাবে উচু জমি এবং মাটিতে বালুর পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখানে সেচ নির্ভর বোরো ধান অন্যান্য জেলার চেয়ে কম আবাদ হয়। তাই একমাত্র ভরসা আমন ধান। এই আমন ধান কৃষকের সারা বছরের খাবারসহ পরিবারের খরচের যোগান দেয়। আদিকাল থেকে চলে আসছে এই নিয়ম। কিন্তু প্রকৃতি এবার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সময়মত বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টির অভাবে আমন চাষ নিয়ে শঙ্কায় পড়ে কৃষকেরা। অতিরিক্তি টাকা খরচ করে অনেক সামর্থ্যবান কৃষক সেচ দিয়ে জমিতে আমন চারা রোপণ করে। বৃষ্টি না হওয়ায় চারা রোপনের পরেও জমিতে সেচ দিতে হয়।
এরপর আগস্টের শুরুতে প্রকৃতি আবারও মানুষের সহায় হয়। অঝোর ধারার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় মাঠ-ঘাট। আগে লাগানো এবং নদী পাড়ের নীচু এলাকার অনেক আমন ক্ষেত পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাময়িক বন্যা দেখা দিলেও বৃষ্টি কমে গিয়ে পানি সরে যায়। কৃষকেরা তৈরি ক্ষেতে পুরোদমে আমন চারা লাগাতে শুরু করে। সেই থেকে কিছুদিন পর পর বৃষ্টি হচ্ছে। আর কয়েকদিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করলে এবারও আমনের বাম্পার ফলন হবে আশা করছে কৃষকেরা।
পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বেংহারি গ্রামের কৃষক দারাজ উদ্দীন জানান, এবার আমি ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত করেছিলাম। বীজতলায় চারাও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে জমিতে চারা লাগাতে পারিনি। বৃষ্টি হওয়া মাত্রই জমিতে চারা লাগিয়েছি। প্রয়োজনীয় সকল সার ও কীটনাশক দিয়েছ্ িএকমাসের মধ্যেই সবুজে ভরে গেছে আমন ক্ষেত। তিনি বলেন , এখনও জমিতে পানি জমে আছে, মাঝে মধ্যে বৃষ্টিও হচ্ছে। আর দুই-তিন সপ্তাহ এমন আবহাওয়া বিরাজ করলে পূর্ববর্তী বছরের মতই আমন ধান ঘরে তুলতে পারব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বাসসকে বলেন, চলতি আমন মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় ৯৬ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মৌসুমের শেষে বৃষ্টিতে শেষ পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১৬৫ হেক্টর বেশি। তিনি আরও বলেন, গত মাসের বন্যায় এখানে ২৬১ হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানি সরে যাওয়ায় সেই ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতেও নতুন করে চারা লাগানো হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন।