ঢাকা, রবিবার, মে ২৭, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হবে ৮ জুলাই * সুযোগ পেলে নারী নিজের কর্মক্ষেত্র তৈরীর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে : ড. শিরীন শারমিন * চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে দেখছেন   |    অর্থনীতি : চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে দেখছেন * অর্থনীতি সমিতির ১২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ   |    জাতীয় সংবাদ : মাদক নির্মূলে সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক : আমু * মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না : সেতুমন্ত্রী * মাদক বিরোধী অভিযানে তথ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী * স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে শেষ হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন   |   প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী কলকাতা থেকে দেশে ফিরেছেন * কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর ডি. লিট ডিগ্রি গ্রহণ * নেতাজী সুভাষ বসু জাদুঘর পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী   |   খেলাধুলার সংবাদ : আন্ডারডগ নাইজেরিয়ার চোখ নক আউট পর্বে * জাপানে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন ইনিয়েস্তা *ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান বাবর   |    বিভাগীয় সংবাদ : মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ * হবিগঞ্জে জনপ্রিয় হচ্ছে লাল জামরুল * নড়াইলে ৬ মাদক বিক্রেতাসহ ৩৪ জন আটক *জয়পুরহাটে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আউস ধান রোপণ সম্পন্ন   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠক এখনও হতে পারে : ট্রাম্প * ওমানের দক্ষিণাঞ্চলে ঘুর্ণিঝড় মেকুনুর আঘাতে হতাহত ৪   |   

থানচিতে সাংগু নদীর বুকে প্রাকৃতিক পাথর

বান্দরবান, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (বাসস) : জেলার থানচিতে সুউচ্চ পাহাড়ের বুকচিরে প্রবাহমান নদীর নাম সাংগু। এ নদীর নানাস্তরে রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক পাথর। এসব পাথরের মধ্যেই সবচেয়ে বড় এবং দৃষ্টিনন্দিত পাথরের নামই হচ্ছে রাজা পাথর। আস্তপাথরটি নদীর পানির মাঝখানেই দিব্যি দন্ডায়মান।
বান্দরবান জেলা সদর থেকে থানচি উপজেলা সদরের দুরত্ব ৮০কিলোমিটার। জেলা সদর থেকে মাত্র তিন ঘন্টায় সড়কপথে যেকোন গাড়িতে যাওয়া যায় থানচি উপজেলা সদরে। থানচি উপজেলা সদর থেকে নৌকা বা বোটে সাংগু নদীপথে উজানের দিকে ২৫কিমি পথ পাড়ি দিলেই(তিন্দু ইউনিয়ন এলাকাভুক্ত) দেখা যাবে রাজাপাথরসহ পুরোনদী জুড়েই বিস্তৃত বিশাল বিশাল প্রাকৃতিক পাথরের অবস্থান। সুউচ্চ পাহাড়চিরেই সাংগু নদী বয়ে গেছে। তার ওপর প্রায় ২০কিমি নদীপথই হচ্ছে আস্ত পাহাড়ঘেরা। শুস্ক মৌসুমে তো কোন মতে পানি ডিংগিয়ে পাথরের পাশঘেঁষেই ছোট ছোট নৌকা চলাচলের সুযোগ আছে। তবে বর্ষায় উজানের পানিভরা এই পাথরের ওপর দিয়ে কিংবা পাথরঘেঁষে যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল মোটেই নিরাপদ নয়। এ পাথরবেষ্টিত নদীপথে অতিঝুঁকিতে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিবছরই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতও আহত হন বেশকিছু মানুষ। গত বর্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল দলের একটি নৌকা পানিতে উল্টে গিয়ে কয়েকটি অস্ত্র খোয়া গিয়েছিল। সৈনিকও নিহত হন একজন।
পর্যটকদের জন্যে থানচি সদর থেকে বড়মদক পর্যন্ত প্রায় ৭০কিমি পানিপথ ভ্রমণের জন্যে উন্মুক্ত থাকলেও নদীপথে থাকা বড় বড় প্রাকৃতিক পাথরসমুহ সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় বসানোর কোন উদ্যোগ এ যাবত কোন মহলই গ্রহণ করেনি। প্রশাসন কিংবা সরকারি মহলের এ বিষয়ে নেই কোন পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত।
জেলার পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত অধ্যাপক মো.ওসমান গণি, সিরাজুল ইসলাম এবং শাহাদাত হোসেন বলেন, সারাদেশ থেকে বান্দরবানে ভ্রমণে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই জেলার দুর্গম এলাকার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট বা পর্যটন কেন্দ্রসমুহ একনজর দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু পাহাড়ের দৃশ্যসহ বৃক্ষরাজি অবলোকন করার পরও তারা সুদুর থানচি উপজেলার প্রাকৃত পাথর এবং গিরিঝর্ণার পানির প্রবাহ দর্শনে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরিবেশ ও পাথর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনপুর্বক নদীর নানাস্থানে থাকা আস্তপাথর সমুহে নিরাপদ স্থানে সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এসব এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পারে। এতে স্থানীয় পাহাড়ি পরিবারগুলো তাদের হ্যান্ডি ক্রাফটও বেশি বিকিকিনি করার সযোগ পাবেন। ফলে দুর্গম এলাকার শত শত পাহাড়ি পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতাও বৃদ্ধি পাবে ।
উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনরে কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষায় ওই এলাকায় উজানের পানির বৃদ্ধির ফলে ৩মাস পর্যন্ত ভ্রমণ নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়। নদীর বুকে প্রাকৃতিকভাবে সৃজিত আস্তপাথরসমুহ সরানো কঠিন বিষয়,তাই নিজেদের নিরাপত্তা ও সতর্কতার সাথে যাত্রীদের নৌকায় চলাচল করতে হয়। যুগযুগ ধরেই এ অবস্থা চলমান রয়েছে। তবে আগামীতে পানি পাথর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে থানচি থেকে বড়মদক পর্যন্ত পানিপথ সারাবছর ধরেই কি ভাবে নিরাপদ রাখা যায় সেই বিষয়ে উচ্চ মহলে যোগাযোগ রক্ষা হচ্ছে।