ঢাকা, ২৯ জুলাই (বাসস) : পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মানবজাতির অস্তিত্বের স্বার্থে প্রাণীকূল রক্ষা করা প্রয়োজন। আর এজন্যই বাঘ সংরক্ষণ করা জরুরি।
‘বাঘ সুন্দরবনের ঐতিহ্য’ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাঘ না থাকলে সুন্দরবনকে রক্ষা করা কঠিন হতো।
প্রতিমন্ত্রী আজ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘বিশ্ব বাঘ দিবস-২০১০’ উপলক্ষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বন অধিদফতর আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতকালে এ কথা বলেন।
আলোচনাসভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিপন্ন বাঘ বাঁচান, সুন্দরবন রক্ষা করুন’।
প্রধান বনসংরক্ষক মো. আব্দুল মোতালেবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মিহির কান্তি মজুমদার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর কাজী জাকের হোসেন। আলোচনায় মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন ‘ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ’র প্রধান নির্বাহী ড. আনোয়ারুল ইসলাম। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপ-প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ, বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি ড. খালেকুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর নূরজাহান সরকার, বাংলালিংকের প্রতিনিধি সালেক শাহরিয়ার এবং ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এনায়াতউল্লাহ খান।
‘বিশ্ব বাঘ দিবস-২০১০’ উপলক্ষে আজ সকালে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।
বিশ্ব বাঘ দিবস-২০১০ উপলক্ষে খসরু চৌধুরীর ব্যবস্থাপনায় বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২শ’ বাঘ রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবনে রয়েছে প্রায় ৪৪০টি। বাংলাদেশে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য ও বন সংরক্ষণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাঘসহ সুন্দরবনের প্রাণীকূল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে যারা কাজ করেন তাদেরকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এজন্য একটি জাতীয় কমিটি রয়েছে।
ড. হাছান মাহমুদ সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে আনার লক্ষ্যে ব্যাপক হারে ভোট দেয়ার জন্য দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী বছরের ১১ নভেম্বর প্রাকৃতিক সপ্তম আশ্চর্য নির্বাচন করা হবে। এজন্য আগামী বছরের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ভোট দেয়া যাবে। তিনি বলেন, সুন্দরবনের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ ভোট কেন্দ্র চালু করা হবে। এছাড়া এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, বন ব্যবস্থাপনার সাথে সুন্দরবন অঞ্চলের ৭৭টি গ্রামের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৭৩ সালের বন্যপ্রাণী আইন সংশোধন করে নতুন আইন করা হয়েছে।