Sep 9, 2010, 5:53 pm (BST)

সংবাদ শিরোনাম

বিভাগীয় সংবাদ : ** টাঙ্গাইলে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত ** বরগুনায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত ** যশোরে ঈদ উপলক্ষে বিউটি পার্লারে ভিড় ** রংপুরে এ্যানথ্রাক্স রোগ সন্দেহে ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি ** শেরপুরে তিন ছিনতাইকারী গ্রেফতার **    |   
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
 
 
 
আবহাওয়া
 
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
 
নামাযের সময়
 
 
 
নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
 
ঢাকা, ২৯ জুলাই (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসকদের প্রতি গ্রামাঞ্চলে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে গরিব ও অসহায়দের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, জনগণের করের পয়সায় আপনারা চিকিৎসক হয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে এখানে গণভবনে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ আয়োজিত চিকিৎসক সম্মেলন-২০১০-এ বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।
ট্রাস্টের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার গত মেয়াদের মতো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চিকিৎসকদের অবশ্যই সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে অবস্থান করে তাদের যথাযথ সেবা দিতে হবে। কেননা, দেশে একজন চিকিৎসক তৈরিতে প্রতিটি নাগরিকের বিরাট অবদান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতি ছিল দেশের গরিব ও অসহায় মানুষের আর্থ-সামাজিক মুক্তির জন্য।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করছে, যেখানে কাউকে অনাহারে ও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হবে না।
তিনি বলেন, তাঁর বর্তমান সরকার অতীতের মতো জাতির জনকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গরিব জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক স্থাপন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য মেডিকেল স্টাফ নিয়োগ এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
একটি স্বাস্থ্যকর জাতি গঠনে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক পুনঃপ্রবর্তন, চিকিৎসকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান, তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধিসহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা সেবা উন্নয়নে তাঁর সরকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিদ্যমান বার্ন ইউনিটের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে অন্তত একটি বার্ন ইউনিট স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ের সকল ৩৫ শয্যার হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় এবং জেলা পর্যায়ের সকল ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডাক্তারদের প্রশিক্ষণের কথা বিবেচনা করে তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসার দক্ষতা অর্জনের জন্য তাঁর সরকার বিদেশে ডাক্তার পাঠাবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশে বিদেশী প্রশিক্ষক আনা হবে যেন বেশীর ভাগ ডাক্তার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন।
ডাক্তারদের পদোন্নতির ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে শিক্ষকদের শূন্যপদ পূরণের জন্য ডাক্তারদের পদোন্নতি দিতে তাঁর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে নতুন আইন কার্যকর এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় সংশোধনী আনতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবো।’ তিনি আরো বলেন, এ লক্ষ্যে তিনি যে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর পদক্ষেপ নিয়েছিলো।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এ প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছিল এবং অসংখ্য ক্লিনিককে ছাগল পালন খামারে পরিণত করেছিল।
এখন আমরা বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করেছি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণকে উন্নততর স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে তাঁর সরকার ইতোমধ্যে এডহক ভিত্তিতে সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে এবং শিগগিরই আরো ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর পূর্ববর্তী সরকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক হ্রাস করেছিল এবং কতিপয় জরুরি চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছিল।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ট্রাস্টের কার্যক্রমের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে এবং তাদের ভোগান্তি লাঘবে সহায়তাকল্পে এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, এর ছাত্র বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এক হাজার থেকে ১২শ’ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুলে শেখ রাসেল বৃত্তি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শেখ কামাল বৃত্তি চালু করা হয়েছেÑ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগের অধীনে গাজীপুরে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও একটি নার্সিং ইনস্টিটিউশন নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাস্টের ‘ফ্রি মেডি কেয়ারস সার্ভিসেস’র অধীনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা চিকিৎসদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুস্থ মানবতার প্রতি সেবা প্রদানের মাধ্যমে তারা বিশ্ব ইতিহাসে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মুজিবুর রহমান ফকির, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি প্রফের মাহমুদ হাসান, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য-সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, নাজমুল হাসান এমপি, ট্রাস্টের উপদেষ্টা হাবিব-ই মিল্লাত এমপি ও ট্রাস্টের সদস্য সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বক্তৃতা করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া প্রায় ৮ হাজার চিকিৎসক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
গোটা দেশের ৪৭৬টি উপজেলায় চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এতে ১০ হাজারের অধিক চিকিৎসক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রোগীদের সেবা প্রদান করেন।
১৯৯৪ সালে ফাদার অব নেশন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করা হয়।
 
 
 
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
সার্বিক তত্ত্বাবধানে : বাসস আই,টি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অনলাইন লিমিটেড