ঢাকা, ২৯ জুলাই (বাসস) : শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলায় আগামী শনিবার জাতীয় কর্মসংস্থান প্রকল্প উদ্বোধনের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকারের আর একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, জাহিদ হাসান রাসেল এমপি, শেখ কবির হোসেন, আলহাজ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আলহাজ শেখ মো. আবদুল্লাহ ও শেখ মোহাম্মাদ আলী (আবু মিয়া) বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে চলতি বছরের ৬ মার্চ কুড়িগ্রামে ও পরে ৬ মে বগুড়ায় এ প্রকল্পের প্রথম পর্বের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পে কুড়িগ্রামে নির্বাচিত ৩১ হাজার ৩৫৮ জনের মধ্যে ৯ হাজার ৭১৬ জন যুবক ও যুব মহিলার ২ বছরের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ১০টি কোর্সে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলী এমপি এ জেলা থেকে কর্মসংস্থান প্রকল্প শুরুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। কুড়িগ্রামের অনেক যুবক ও সাধারণ মানুষ এখন এ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন।
জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ডেপুটি ডাইরেক্টর আশরাফুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় ব্যাচের জন্য নির্বাচিত ৯৯৫০ জনের প্রশিক্ষণ শিগগিরই শুরু হবে। এরপর শুরু হবে তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ।
বরগুনার ৫ উপজেলায় নির্বাচিত ১৩ হাজার যুবকের মধ্যে ৪ হাজারের প্রশিক্ষণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ১০টি কোর্সে ১৭৮ জন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে ডেপুটি ডাইরেক্টর মোশতাক আহমেদ জানান।
গোপালগঞ্জের ডেপুটি ডাইরেক্টর কোহিনুর মিয়া বলেন, নির্বাচিত ১৯ হাজার ৩৯৪ জনের মধ্যে ৫ হাজার যুবক ও যুব মহিলার প্রশিক্ষণ ১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। এখানে ৫ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১০ কোর্সে ৩০৭ জন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ দেবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি (ইয়ুথ-২) পারভিন বানু বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বর্তমান সরকার কর্মসংস্থান প্রকল্পের প্রথম পর্বের পাইলট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
পাইলট প্রকল্প শেষে দেশব্যাপী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ন্যূনতম এসএসসি পাশ বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের ২ বছরের জন্য সরকারি অফিস, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ দেয়া হয়।
প্রশিক্ষণকালে প্রত্যেকে দৈনিক ১০০ টাকা ও প্রশিক্ষণ শেষে ২ বছর মেয়াদি চাকরিতে প্রথমে ২০০ টাকা হারে বেতন-ভাতা পাবেন।
পারভিন বানু বলেন, দেশকে ক্ষুধা, নিরক্ষর ও সামাজিক বৈষম্য থেকে রক্ষায় এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চাকরির বয়স নেই, দীর্ঘদিন থেকে বেকার এবং মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিতের পরিবারের সন্তানদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাকরিপ্রাপ্ত পারুল বেগম ও জিন্নাতুন নাহার বলেন, অনেক চেষ্টায়ও চাকরি না পাওয়ায় আমরা এর আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল সার্ভিস পাইলট প্রকল্পের সুবাদে বর্তমানে আমরা কান্তবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ করছি।’
পারুল বেগম আর জিন্নাতুন নাহার এর আগে চাকুরির জন্য অনেক চেষ্টা করেও সফলকাম হতে পারেননি। কিন্তু ন্যাশনাল সার্ভিসের কল্যাণে তারা এখন স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার কাজ পেয়েছেন। এই দুজন বেকার যুব মহিলা এখন কাজ করছেন সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। তারা জানান, বয়স পেরিয়ে যাওয়ায় চাকুরির আশা যখন তারা ছেড়েই দিয়েছিলেন, তখনই তারা এই অভাবনীয় কাজের সুযোগ পেয়ে চেষ্টা করছেন আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে। তাদের মতো কুড়িগ্রামের ৯ হাজার ৭১৬ জন বেকার যুবক ও যুব মহিলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইন শৃংখলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। গত ৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে ন্যাশনাল সার্ভিসের উদ্বোধনের পর প্রথম ব্যাচে ৯ হাজার ৭১৬ জনকে ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় ৬ হাজার ৬৬৮ জন যুব ও ৩ হাজার ২৮ জন যুব মহিলা-মোট ৯ হাজার ৭১৬ জন বেকার যুবকও যুব মহিলা কাজে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে রৌমারীতে ৯৮৭ জন, রাজীবপুরে ৪৯৪ জন, রাজারহাটে ৯৫৯ জন, উলিপুরে ১ হাজার ৪৭২ জন, ভুরুঙ্গামারীতে ৯৬৮ জন, চিলমারীতে ৯৯৮ জন, ফুলবাড়িতে ৯৭৭ জন, নাগেশ্বরীতে ১ হাজার ৪৩১ জন ও সদরে ১ হাজার ৪৩০ জন ।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ন্যাশনাল সার্ভিস এ কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় ৩১ হাজার ৩৫৮ জন এসএসসি ও তদুর্ধ পাশ প্রকৃত বেকার যুবক ও যুবতিকে সনাক্ত করার পর প্রাথমিকভাবে ৯ হাজার ৯৫০ জনকে নির্বাচন করা হয়। ৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য ৪১টি ভেনুতে দুই শিফটে ১০টি মডিউলের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৯ হাজার ৭১৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। তাদের বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত করে কাজের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
কর্মসূচীতে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী বেকার যুবক ও যুবতিদের ৩ মাস মেয়াদী জাতি ও চরিত্র গঠনমুলক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজসেবামুলক, মৌলিক ধারণা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা ও শারিরিক শিক্ষা, বন ও পরিবেশ, কৃষি, জন নিরাপত্তা ও আইন শৃংখলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ সেবা কার্যক্রম এই ১০টি মডিউলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণ শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা ট্রেডে ২ হাজার ২৬৭ জন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯২০ জন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ হাজার ১১৪ জন, কৃষি, বন, পরিবেশ ট্রেডে ১ হাজার ৮১৫ জন, ইউনিয়ন পরিষদ সেবা ট্রেডে ১ হাজার ২৩৮ জন,৩মৌলিক কম্পিউটার ট্রেডে ৬২২ জন ও জননিরাপত্তা ও আইন শৃংখলা ট্রেডে ৭৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর দু বছরের জন্য অস্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কর্মকালীন সময়ে তারা দৈনিক ২০০ টাকা হারে মাসে ৬ হাজার টাকা করে পাবেন।
কুড়িগ্রাম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, অবশিষ্ট বেকারদের ২০১১ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর কাজে নিয়োজিত করা হবে।