ঢাকা, বুধবার, মে ২৩, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : নদী দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে : নৌপরিবহন মন্ত্রী * শিশুদের সাইবার নিরাপত্তায় বাজেটে প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব   |   রাষ্ট্রপতি : রাষ্ট্রপতি শুক্রবার নজরুল জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন   |   শিক্ষা : চুয়েটে পিএইচডি এমফিল ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি শুরু   |    জাতীয় সংবাদ : এসডিজি অর্জনে দেশকে জঙ্গি, মাদক ও জলদস্যু-বনদস্যু মুক্ত করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * সাংবাদিক কামাল উদ্দিনের ইন্তেকাল *বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত * গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী   |   প্রধানমন্ত্রী : বিচারপতি এবং কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার * ছাত্র বৃত্তি সঠিকভাবে বিতরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী   |   খেলাধুলার সংবাদ : লিভারপুলের আক্রমণভাগকে সমীহ করলেও নিজেদেরই সেরা ভাবছেন রোনাল্ডো * ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেন কেন * আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন মেসি   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : বিতর্কিত ভোটে নির্বাচিত মাদুরোকে এরদোগানের অভিনন্দন * ইরানের সরকার পরিবর্তেনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র * স্কুলে বন্দুক হামলা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে টেক্সাস গভর্নরের বৈঠক   |    বিভাগীয় সংবাদ : সাতক্ষীরার মুক্তামণি আর নেই * কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে পৃথক বন্দুুকযুদ্ধে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত * জয়পুরহাটে বোরো ধান কাটা-মাড়াই উৎসব চলছে   |   

ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় কারো কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি : প্রধানমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংসদ নেতা বুধবার দেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় কারো কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
তিনি গতকাল জাতীয় সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের জন্য আনিত প্রস্তাবের সমর্থনে প্রদত্ত বক্তৃতায় একথা বলেন।
প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রায়ে সংসদকে এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে হেয় করা বা তাঁর ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা, জাতির পিতার সম্পর্কে কথা বলা বা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা- এটাতো একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে বা একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই যে রায় দেয়া হয়েছে, তা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
উনি (প্রধান বিচারপতি) তার রায়ে আর একটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, কেবিনেট যেভাবে সিদ্ধান্ত নেয় সেভাবে নাকি সংসদ চলে।
সরকার প্রধান বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা সংসদ চলে সংবিধান মোতাবেক এবং সংসদ কিভাবে চলবে সেখানে তার কার্যপ্রণালী বিধিও দেয়া রয়েছে। আর এই কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কার্যউপদেষ্টা কমিটি রয়েছে। যার সভাপতিত্ব করেন স্পিকার। সংসদ কতদিন চলবে, কি কি আলোচনা হবে- তার সবকিছুই কার্যউপদেষ্টা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কাজেই এখানে কেবিনেটের কোন ভূমিকাই নেই। মানে উনি এই বিবিধ ধরনের কথা বলতে গিয়ে নিজেকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি আমাদের পার্লামেন্ট, গণতন্ত্র- সবকিছুকেই একটি প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। কাজেই এখানে তার উদ্দেশ্য কি সেটাই আমার প্রশ্ন।
শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই আমি এটুকুই বলতে চাই যে, এই সংসদই সার্বভৌম এবং পার্লামেন্টই সংবিধান রচনা করে। পার্লামেন্টই জনগণের অধিকার সুরক্ষিত করে এবং এই পার্লামেন্ট গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে।
তিনি বলেন, আর এই পার্লামেন্ট যে আইন পাস করে সেই আইন দ্বারাই বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ চলে। আইন সভা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ এই তিনটিই ওই আইনের দ্বারাই চলে যে আইন সংসদ তৈরি করে দেয়।
রায়ের পর বিএনপির মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় হতবাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখলাম- বিএনপি খুবই উৎফুল্ল হলো, মিষ্টি বিতরণ করলো। তার একটাই কারণ হতে পারে, ওই রায়তেই আবার তাদের মার্শাল ল দেয়া, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল-এগুলোও কিন্তু বলা রয়েছে।
এটাও বলা রয়েছে, জিয়া মার্শাল ল দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল এবং এটা যে ব্যানানা রিপাবলিক করেছিল, সেটাও কিন্তু বলা আছে। তাই এতোদিন পর আমাদের কথাই মেনে নিয়ে তারা মনে হয় ওইটা দেখেই খুশি হয়ে গেছে। অথবা তারা রায় ভালোভাবে দেখেননি বা পড়েননি।
তিনি বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল মার্শাল ল দ্বারা করা এবং সেটাকেই ফিরিয়ে আনাতেই তারা উৎফুল্ল। অর্থাৎ যেটা উচ্চ আদালতের রায় মার্শাল ল দিয়ে যা যা করা হয়েছে, তা অবৈধ। এই অবৈধ জিনিসকে যখন বৈধতা দিতে গেছে, তখন ওইটুকুতেই তারা খুশি হয়ে গেছে, বাকিটা আর দেখেনি।
গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার আহবান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে আমাদের সমুন্নত রাখতে হবে। জনগণের যে অধিকার এবং ভোটের অধিকার তাকে সমুন্নত রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ছাড়া দেশের উন্নতি হয় না। তাই এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। সে লক্ষ্যেই আজকে এই সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্খা পরিপূরণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদের প্রজাতন্ত্রের মালিক করা হয়েছে এই জনগণকে।

সম্পর্কিত সংবাদ