শিরোনাম
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ (বাসস) : জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার বলেছেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং দক্ষিণ লেবাননে 'দখলদারিত্ব' বন্ধ করতে হবে।
লেবাননের বৈরুত থেকে এএফপি জানায়, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো যুদ্ধবিরতির প্রায় দুই মাস পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
গুতেরেস বলেন, 'ইউউনিফিলের (ইউনাইটেড নেশনস ইন্টেরিম ফোর্স ইন লেবানন) পরিচালনাধীন এলাকায় ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতি এবং লেবাননের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান জাতিসংঘের প্রস্তাব ১৭০১-এর লঙ্ঘন। এসব বন্ধ করতে হবে।'
তিনি দক্ষিণ লেবাননের নাকুরায় জাতিসংঘের ইউনিফিল সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।
২০০৬ সালে ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র দল হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব ১৭০১-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
প্রস্তাব ১৭০১ অনুযায়ী কেবল লেবাননের সেনাবাহিনী এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন হতে পারে।
গুতেরেস আরও জানান, ২৭ নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা দক্ষিণ লেবাননে ১০০টিরও বেশি অস্ত্র মজুদ খুঁজে পেয়েছে, যা তিনি 'হিজবুল্লাহ বা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্তর্গত বলপ জানান।
তিনি বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনী এবং ইউনিফিলের বাহিনী ছাড়া কোনো সশস্ত্র কর্মী, সরঞ্জাম বা অস্ত্রের উপস্থিতি প্রস্তাব ১৭০১-এর লঙ্ঘন।
হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে ২৭ নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ২৬ জানুয়ারির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে গুতেরেস লেবানন সফরে রয়েছেন।
২৭ নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সেনাবাহিনীকে ইউনিফিলের সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন হতে হবে এবং একই সঙ্গে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।
একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর উত্তরে (সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে) তার বাহিনী প্রত্যাহার এবং দক্ষিণে বাকি সামরিক অবকাঠামো অপসারণ করতে হবে।
লেবানন, ইসরায়েল, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউনিফিলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫-১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর লেবাননে একমাত্র হিজবুল্লাহই তার অস্ত্র রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।