বাসস
  ১১ মার্চ ২০২৫, ১৬:০৪
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৫, ১৬:৪৯

আস্থাভোটে হারের মুখে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১১ মার্চ, ২০২৫ (বাসস): পর্তুগালের মধ্য-ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো ‘স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত’ অভিযোগে জড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার এক আস্থাভোটে পরাজিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার সংখ্যালঘু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় (১৫০০ জিএমটি) এই আস্থাভোটের পার্লামেন্টারি বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধান বিরোধী দল সোশ্যালিস্ট পার্টি (এসপি) স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ভোট দেবে এবং তারা তাকে সমর্থন দেওয়ার যে কোনো প্রয়াস প্রত্যাখ্যান করেছে।

এসপি সোমবার আরো একধাপ এগিয়ে গিয়ে মন্টেনেগ্রোর সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত বিষয়ে একটি পার্লামেন্টারি তদন্ত কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে।

সরকারের মুখপাত্র আন্তোনিও লেইতাও আমারো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, কিন্তু কিছু লোক এগুলো উপেক্ষা করতে চায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সরকার পরিচালনা চালিয়ে যেতে চাই,’ তবে তা নির্ভর করছে সোশ্যালিস্টদের ওপর।

মন্টেনেগ্রো বলেন, পর্তুগালকে ‘অস্থিতিশীলতার জালে’ জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করার ‘দায়িত্ববোধ’ থেকেই তিনি শনিবার আস্থাভোটের ডাক দিয়েছেন।

আস্থাভোটে সরকার পরাজিত হলে মন্টেনেগ্রোকে পদত্যাগ করতে হবে এবং দেশের প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসা যদি পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে  আগামী ১১ বা ১৮ মে নতুন আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা মন্টেনেগ্রো গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে তিনি পার্লামেন্টে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি।

তার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে এক সংবাদ প্রতিবেদন যেখানে বলা হয়েছে, মন্টেনেগ্রোর স্ত্রী ও সন্তানদের মালিকানাধীন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুবিধার ওপর নির্ভরশীল কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল।

পর্তুগিজ গণমাধ্যমে আরো বলা হয়েছে, একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ইতোমধ্যে দু’টি অনাস্থা ভোটে টিকে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি ঘোষণা করেছেন যে, পারিবারিক ব্যবসাটি এখন একান্তই তার সন্তানদের মালিকানায় থাকবে, তবে বিরোধীরা তার ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

লুইস মন্টেনেগ্রো ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

মন্টেনেগ্রোর পূর্বসূরি ও সমাজতান্ত্রিক নেতা আন্তোনিও কস্তা দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ২০২৩ সালের নভেম্বরে পদত্যাগ করেন। তবে তিনি সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে, ২০২৪ সালের জুনে তিনি ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি হন।