শিরোনাম
ঢাকা, ১৮ মার্চ, ২০২৫ (বাসস) : খার্তুমের দিকে অগ্রসরমান সুদানের সামরিক বাহিনী সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সৈন্যদের সাথে একত্রিত হয়েছে।
একজন সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী আধাসামরিক বাহিনীর ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নগরীটি পুনরুদ্ধারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ওমদুরমান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
খার্তুমে কয়েক মাস ধরে চলমান অচলাবস্থার পর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোয় দীর্ঘ অবরোধ ভেঙে ফেলার পর ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর সঙ্গে যুদ্ধরত সেনাবাহিনীর সর্বশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
সেনা মুখপাত্র নাবিল আবদুল্লাহ আলী বলেন, দক্ষিণ থেকে অগ্রসরমান আর্মার্ড কোর্পস সৈন্যরা আরএসএফ-এর কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল দখল করেছে, যার ফলে তারা নগরীর কেন্দ্রস্থলে ইতোমধ্যেই জেনারেল কমান্ড বাহিনীর সাথে একীভূত হতে সক্ষম হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সুদানী সামরিক বিশেষজ্ঞ এএফপি-কে বলেন, সর্বশেষ সেনা অভিযান মধ্য খার্তুমের বেশিরভাগ অংশের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, এটি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে আরএসএফ যোদ্ধাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করবে। সেনাবাহিনী এখন দক্ষিণ ও পূর্ব উভয় দিক থেকে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে। রাজধানী খার্তুম ও তার বাইরে সংঘাতের শুরুতে আরএসএফ-এর কাছে হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী চেষ্টা করছে।
গত অক্টোবরে আর্মার্ড কোর্পস তার সদর দপ্তরে মাসব্যাপী আধাসামরিক বাহিনীর অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং জানুয়ারিতে সেনাবাহিনী তার জেনারেল কমান্ড সদর দপ্তরের প্রায় দুই বছরের আরএসএফ অবরোধের অবসান ঘটায়।
একটি মেডিকেল সূত্র এএফপিকে জানায়, সোমবার সন্ধ্যায়, নীল নদের ওপারে খার্তুমের যমজ নগরী (টুইন সিটি) ওমদুরমানে আরএসএফ-এর কামানের গোলার আঘাতে ১০ জন নিহত হয়।
এলাকার এএফপি সাংবাদিকরা গত বছর থেকে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ওমদুরমানে ধারাবাহিক কামানের গোলাগুলির খবর জানিয়েছেন।
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল-নাও হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এএফপিকে বলেন, একদিন আগে, আরএসএফ-এর হামলায় ছয়জন বেসামরিক লোক নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুজন ও আহতদের অর্ধেক শিশু।
সেনা-সমর্থিত খার্তুম আঞ্চলিক সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর ওমদুরমানের আবাসিক এলাকায় রোববারের বোমা হামলা বেসামরিক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ঘরের ভেতরে ও ফুটবল খেলার মাঠে শিশুদের ওপর এ হামলা চালানো হয়।
-তীব্র লড়াই—
শনিবার টেলিগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিও ভাষণে, আরএসএফ কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগলো তার সৈন্যদের খার্তুমের ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল ‘রিপাবলিকান প্রাসাদ’ ছেড়ে যাবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজধানী জুড়ে লড়াই চলাকালীন এএফপি’র সাংবাদিকরা নগরীরর কেন্দ্রস্থলে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন। বেশ ক’টি এলাকায় গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
দেশব্যাপী, এই সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ১ কোটি ২০ লক্ষাধিক মানুষ উচ্ছেদ হয়েছে এবং বিশ্বের বৃহত্তম ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, শুধুমাত্র খার্তুমেই সহিংসতার কারণে কমপক্ষে ৩৫ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
নগরীরর প্রধান হাসপাতালের একটি মেডিকেল সূত্র এএফপিকে জানায়, রাজধানী থেকে দূরে, খার্তুম থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবাইদে সোমবার আরএসএফ-এর গোলাবর্ষণে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আরো ১৫ জন আহত হয়েছে।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, উত্তর কর্দোফান জুড়ে, বর্তমানে দুই লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত ও প্রায় দশ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছে।
দক্ষিণ সুদান ও ইথিওপিয়ার সীমান্তবর্তী ব্লু নাইল রাজ্যেও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
প্রায় দুই বছরের মধ্যে, যুদ্ধ সুদানকে প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে, আরএসএফ পশ্চিমের প্রায় পুরো দারফুর ও দক্ষিণের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, অন্যদিকে সেনাবাহিনী দেশটির উত্তর ও পূর্ব দখলে রেখেছে।
সাম্প্রতিক সেনাবাহিনী সুদানের মধ্যাঞ্চল ও খার্তুমে সাফল্য অর্জন করেছে এবং সমগ্র রাজধানী পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে বলে মনে হচ্ছে।