শিরোনাম
ঢাকা, ২৩ মার্চ, ২০২৫ (বাসস): ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধানকে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত না মানলে সাধারণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির বিরোধী দল।
শনিবার তেল আবিবে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ইয়েশ আতিদের নেতা ইয়ার ল্যাপিড বলেন, ‘সরকার যদি আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে, তাহলে এটি আইন বহির্ভূত সরকারে পরিণত হবে। যদি এমনটা ঘটে, তাহলে সারাদেশে ধর্মঘটের মাধ্যমে তা থামানো উচিত। একমাত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল থাকবে।’
তেল আবিব থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান রোনেন বারকে বরখাস্তের অভূতপূর্ব পদক্ষেপ দেশটিতে বিভক্তি আরো গভীর করছে। কেননা ইসরাইল গাজা উপত্যকায় তার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারা শুক্রবার বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর নেতানিয়াহু বারের স্থলাভিষিক্ত হতে অন্য কারো নাম দিতে পারেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন, ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান কে হবেন, তা সরকারের ওপর নির্ভর করে। কোনো গৃহযুদ্ধ হবে না। ইসরাইল রাষ্ট্র আইনের রাষ্ট্র। আইন অনুসারে ইসরাইলের সরকারই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে শিন বেতের প্রধান কে হবেন।’
তেল আবিবে বিক্ষোভ চলাকালে শনিবার এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু এই দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘রোনেন বার শিন বেতের প্রধান হিসেবে থাকবেন না। কোনো গৃহযুদ্ধ হবে না এবং ইসরাইল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে।’
বিক্ষোভকারীরা রোনেন বারকে বরখাস্তসহ নেতানিয়াহুর নীতিগুলোকে ইসরাইলের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিক্ষোভ চলাকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরের সামনে মেনাহেম বেগিন স্ট্রিট, কাপলান স্ট্রিট থেকে কিং সল স্ট্রিট পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য ছিল।
এএফপির একজন আলোকচিত্রী লক্ষ্য করেছেন, বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন, এটি জাতীয় পর্যায়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন।
লাপিডের দল ইয়েশ আতিদ বারকে বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। তারা বারকে বরখাস্তে সরকারের পদক্ষেপকে ‘স্বার্থের স্পষ্ট সংঘাতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
সরকার বিরোধী ওই সমাবেশে লাপিড বক্তব্য দেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা গাজা উপত্যকায় পুনরায় যুদ্ধ শুরুর প্রতিবাদ ও সেখানে আটক জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
‘আর রক্তপাত নয়’ এবং ‘এখনই যুদ্ধ বন্ধ করুন’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন বিক্ষোভকারীরা। তারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় আটক ৫৮ জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এদিকে নেতানিয়াহুর কট্টর সমালোচক অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারার অভিসংশন প্রক্রিয়া শুরু করতে রোববার বেঠকে বসছে সরকার। তার সঙ্গে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে।
রোববার সংসদের বাইরে ও নেতানিয়াহুর জেরুজালেমের বাসভবনের কাছে তার অপসারণের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।