বাসস
  ২৬ মার্চ ২০২৫, ১৬:৪৩

অস্কারজয়ী ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতার মুক্তি দিলো ইসরাইল

অস্কারজয়ী ফিলিস্তিনি পরিচালক হামদান বেলাল। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৬ মার্চ, ২০২৫ (বাসস) : অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর ফিলিস্তিনি সহ-পরিচালক হামদান বেলালকে আটকের একদিন পর মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল। তথ্যচিত্রের অপর সহ-পরিচালক জুবাল আব্রাহাম তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইল টাইমস এ কথা জানায়।

গত সোমবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের সুসিয়া গ্রামে সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের শিকার হওয়ার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী বেলালকে আটক করে।

গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জুবাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, ‘সারারাত হাতকড়া পরিয়ে সামরিক ঘাঁটিতে মারধরের পর হামদান বেলাল এখন মুক্ত। তিনি এখন তার নিজ বাড়িতে পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন।’

টাইমস জানিয়েছে, বেলাল ও আরও দুই ফিলিস্তিনিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি কিরিয়াত আরবাতের একটি পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়। মঙ্গলবার সেখান থেকেই তাদেরকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। ওই সময় বেলালের মুখে আঘাতের চিহ্ন এবং পোশাকে রক্তের দাগ ছিল।

পুলিশ স্টেশনে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বেলাল বলেছেন, তাকে একটি সেনাঘাঁটিতে আটকে রাখা হয়েছিল এবং একটি বরফশীতল এসির নিচে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়। তাকে ২৪ ঘণ্টা চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

বেলাল বলেছেন, ‘আমার চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। সারারাত আমি ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। একটা অন্ধকার ঘর, কিন্তু আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমাকে নিয়ে সেনাদের হাসাহাসি শুনেছিলাম।’

হামদান বেলালের আইনজীবী লিয়া সেমেল বলেন, আক্রমণের শিকার হওয়ার পর তাদের যৎসামান্য চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছিল। গ্রেফারের পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত তাকে (আইনজীবীকে) তাদের কাছে যেতে দেয়া হয়নি।

আইনজীবী বলেন, বেলালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এক তরুণ অবৈধ বসতি স্থাপনকারীর ওপর পাথর ছুড়ে মারার অভিযোগ আনা হয়। তবে তারা এ অভিযোগ নাকচ করেন
চলতি বছরের ৯৭তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা তথ্যচিত্র বিভাগে জয়ী হয় ‘নো আদার ল্যান্ড’। ওই তথ্যচিত্রে ইসরাইলি দখলদারির অধীন গাজার মানুষের জীবন সংগ্রামের নানা দিক উঠে এসেছে। চার ফিলিস্তিনি ও এক ইসরাইলি অধিকারকর্মী তথ্যচিত্রটি বানিয়েছেন। তাদেরই একজন হামদান।

গত সোমবার সন্ধ্যায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের সুসিয়া গ্রামে ফিলিস্তিনি গ্রামবাসীর ইফতারের সময় প্রায় দুই ডজন সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারী সেখানে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন মুখোশ পরা ছিল। কারও হাতে বন্দুক ছিল। আবার কারও গায়ে সামরিক বাহিনীর পোশাক ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেটেলাররা ফিলিস্তিনিদের দিকে পাথর ছুড়ছিল। সে সময় ইসরাইলি সেনারা সেখানে উপস্থিত হয় এবং ফিলিস্তিনিদের দিকেই বন্দুক তাক করেন। হামদানের স্ত্রী লামিয়া বেলাল বলেন, তিনি বাড়ির বাইরে তার স্বামীকে মারধরের শব্দ শুনতে পান। ওই সময় তিনি ভয়ে তার তিন সন্তান নিয়ে ঘরের ভেতরেই ছিলেন।

লামিয়া জানান, তিনি তাকে (হামদানকে) চিৎকার করে বলতে শোনেন ‘আমি মরে গেলাম’ এবং সেই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সও ডাকতে বলেন। এরপর জানালা তিনি দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখতে পান, ইউনিফর্ম পরা তিনজন লোক তাদের রাইফেলের বাঁট দিয়ে বেলালকে মারছে এবং সাদা পোশাক পরা আরেকজন ব্যক্তি তার ভিডিও ধারণ করছে।

লামিয়া বলেন, অস্কার পাওয়ার পর তাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। তার কথায়, ‘অবশ্যই, অস্কারের পর, তারা আমাদের আরও আক্রমণ করতে শুরু করেছে। আমি শঙ্কিত।’ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলার জন্য জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে।