শিরোনাম
রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তান, ৫ এপ্রিল, ২০২৫ (বাসস) : বেনজির রৌফি তার রেস্তোরাঁয় একা দাঁড়িয়ে আছেন। পাকিস্তান সরকার লক্ষ লক্ষ আফগানের আবাসিক অনুমতি বাতিল ঘোষণা দেওয়ার পর তার কর্মীরা এবং গ্রাহকরা সেখানে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
মার্চের শুরুতে ইসলামাবাদ ঘোষণা করেছিল ৮ লক্ষ আফগান নাগরিক কার্ড (এসিসি) বাতিল করা হবে। এটি একটি নির্বাসন কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ যা ইতোমধ্যেই ৮ লক্ষ অননুমোদিত আফগানকে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।
রাওয়ালপিন্ডি থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
রৌফি (৪৫) এএফপিকে বলেন, ১৯৯০-এর দশকে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসার সময় ১৩ বছর বয়সী ছিলেন। এখন ‘যদি আমাকে নির্বাসিত করা হয়, তাহলে এটা আমাকে ধ্বংস করে দেবে। হয় আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে, নয়তো আমি নিজের জীবন নিয়ে নেব’।
‘পাকিস্তান আমাদের হাসি দিয়েছে এবং এখন সেই হাসি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’
রাওয়ালপিন্ডির রেস্তোরাঁয় পুলিশ অভিযান চালানোর পর তার জন্য কাজ করা দশজন আফগান মহিলা বাড়ি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমন একটি দেশে নির্বাসনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যেখানে মহিলাদের পড়াশোনা, নির্দিষ্ট কিছু চাকরি এবং পার্কের মতো কিছু পাবলিক স্থানে যাওয়াও নিষিদ্ধ।
রৌফি আরো বলেন, ‘আমার কাছে ফিরে যাওয়ার মতো কেউ নেই। তালেবানরা আমাদের গ্রহণ করবে না।’
এসিসি হোল্ডারদের স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার জন্য সরকারের দেওয়া সময়সীমা এপ্রিলে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কর্মীদের মতে, কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস ধরে হয়রানি করছে।
যারা পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন পাকিস্তানিদের সাথে বিবাহিত হয়েছেন অথবা কয়েক দশক ধরে দেশে বসবাস করছেন তাদের সরকারি আবাসিক অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
সীমান্তে পাকিস্তানের দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রতিবেশী সরকারগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার পর এই বহিষ্কার অভিযান শুরু হয়েছে।
ইসলামাবাদ-ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ’ অনুসারে, গত বছরটি ছিল পাকিস্তানে প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক বছর, যেখানে হামলায় ১৬শ’ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। যার প্রায় অর্ধেকই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, তালেবান সরকার আফগান মাটিতে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিদের নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের এই অভিযোগ তালেবান সরকার অস্বীকার করেছে।
তালেবান সরকার বারবার আফগানদের তাদের দেশে ‘মর্যাদার সাথে’ প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হাসান আখুন্দ আফগানদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোকে জোর করে তাড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।