বাসস
  ১১ অক্টোবর ২০২৩, ১০:১৪

গোপালগঞ্জে ছাগলের দেহে ৮৮২০০ পিপিআর টিকা প্রয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

মনোজ কুমার সাহা
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ, ১১ অক্টোবর, ২০২৩ (বাসস) : গোপালগঞ্জ জেলায়  ছাগলের দেহে ৮৮ হাজার ২০০ পিপিআর টিকা প্রয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। 
গত ৩০ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার ৬৮টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় পিপিআর টিকা প্রয়োগ শুরু হয়। আগামী ১২ অক্টোবর পিপিআর টিকা প্রয়োগ সম্পন্ন হবে।
গত ৯ অক্টোবর  পর্যন্ত  গোপালগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় ৬৮ হাজার ২৮৯টি ছাগলের দেহে পিপিআর টিকা প্রয়োগ সম্পন্নœ হয়েছে। ৯ অক্টোবর ৬ হাজার ১৮টি ছগল ও ৬০টি ভেড়ার দেহে পিপিআর টিকা প্রয়োগ করা হয়। আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে ৮৮ হাজার ২০০ ছাগলের দেহে পিপিআর টিকা প্রয়োগ সম্পন্ন হবে বলে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোবিন্দ চন্দ্র  সরদার বাসসকে জানিয়েছেন। 
ওই কর্মকর্তা বলেন,  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৮ হাজার, মুকসুদপুর উপজেলায় ২১ হাজার ৮০০ , কাশিয়ানী উপজেলায় ৯ হাজার ৫০০, কোটালীপাড়া উপজেলায় ১৯ হাজার ৭০০ ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৯ হাজার ২০০ টি ছাগলের দেহে পিপিআর টিকা প্রয়োগ করা হবে। আমরা ৫ উপজেলায় ৮৮ হাজার ২০০ পিপিআর টিকা প্রেরণ করেছি।  ইতিমধ্যে আমরা ৬৮ হাজার ২৮৯টি ছাগলের দেহে পিপিআর টিকা প্রয়োগ সম্পন্নœ করেছি। টিকা প্রয়োগের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। 
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাষ চন্দ্র সেন বলেন, আমরা  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২৮ হাজার  ছাগলের দেহে পিপিআর টিকা প্রয়োগ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করি। আমরা টিকা প্রয়োগের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে এনেছি। ১২ অক্টোবরের মধ্যে সদর উপজেলায় টিকা প্রয়োগ সম্পন্ন হবে।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস ও চামড়া সারা বিশে^ খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু  আমাদের ব্লাক বেঙ্গল ছাগলে পিপিআর রোগ থাকায় ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস ও চামড়া বিদেশে রফতানী করা  যায় না। ছাগলের পিপিআর রোগ প্রতিরোধ করে সরকার ছাগলের মাংস ও চামড়া বিদেশে রফতানীর উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীরা একসাথে ৫ থেকে ১০টি ছাগল পালন করেন। কিন্তু তারা ছাগলের ন্যয্যমূল্য পান না। তাই আমরা টিকা প্রয়োগ করে  ছাগলকে পিপিআর রোগ মুক্ত করছি। এ ছাগলের মাংস ও চামড়া বিদেশে রফতানী করতে পারলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীরা ছাগলের ন্যয্য মূল্য পাবেন। এতে গ্রমীণ অর্থনীতি সচল হবে। 
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্র দীঘলিয়া গ্রামের  অঞ্জু বেগম (৫৫) বলেন, আমার ১০টি ছাগলেই টিকা দিয়েছে মাঠ কর্মীরা। এখন আর ছাগলের পিপিআর রোগ হবে না। বেশি দামে ছাগল বিক্রি করতে পারব। এতে আমাদের লাভ হবে। টিকা প্রয়োগ নিয়মিত করার জন্য আমি দাবি জানাচ্ছি। 
কোটালীপাড়া উপজেলার কুরপালা গ্রামের নিম্মী বেগম (৪৫) বলেন, এভাবে টিকা দিয়ে ছাগল রক্ষা করায় আমি প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরকে স্বগত জানাচ্ছি। এটিতে আব্যাহত রাখতে হবে। তা হলে আমরা ছাগল পালন করে ভালো টাকা আয় করতে পারব। বৈদেশিক মূদ্রা আয় করতে পারলে দেশ আরো স্বচ্ছল হবে।