বাসস
  ২৮ মার্চ ২০২৫, ১৭:৪৫
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, ১৭:৫৬

টিকেটের বিড়ম্বনা নেই, লম্বা ছুটিতে চট্টগ্রাম থেকে স্বস্তির ঈদযাত্রা 

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম, ২৮ মার্চ ২০২৫ (বাসস) : এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদ উদযাপনে স্বস্তিদায়ক পরিবেশে বাড়ি ফিরছে মানুষ। লম্বা ছুটি ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দিয়েছে। ঈদ মানেই স্বজন-পরিজনের সম্মিলন। আর এই সম্মিলনের আশায় প্রতি বছরের মতো চট্টগ্রাম ছেড়ে নীড়ে ফিরছে মানুষ, যারা জীবিকার তাগিদে আছেন বন্দর নগরীতে। এবার ট্রেনের টিকিট পেতে বিড়ম্বনা ছিল না। পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের খুব বেশি অভিযোগও ছিল না যাত্রীদের। আর লম্বা ছুটি হওয়ায় ধাপে ধাপে মানুষ চট্টগ্রাম নগরী ছেড়ে যাচ্ছেন। এর ফলে মোটামুটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশেই চলছে এবারের ঈদযাত্রা। প্রায় সবার চোখে-মুখে আনন্দের ছটা।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে আগামী সোমবার (৩১ মার্চ) অথবা মঙ্গলবার (১ এপ্রিল)। তবে ঈদ যেদিনই হোক, বন্ধ থাকছে পুরো সপ্তাহ। কিছু বেসরকারি কলকারখানা-প্রতিষ্ঠান শনিবারও (২৯ মার্চ) খোলা থাকবে। তবে সার্বিকভাবে বন্ধ শুরু হয়ে গেছে আজ (শুক্রবার) থেকেই।

আজ শুক্রবার সকালে মহানগরীর বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ঘুরে এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে স্বস্তির ঈদ যাত্রার এ চিত্র দেখা গেছে। আগের মতো হুড়োহুড়ি কিংবা অস্বস্তির পরিবেশ দেখা যায়নি। নগরীর প্রবেশপথ ও বাস টার্মিনালগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। 

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সরকারি বন্ধ ছিল। এরপর বৃহস্পতিবার একদিন খোলার দিন গেছে। শুক্র-শনিবার আবারও সাপ্তাহিক বন্ধ। শনিবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলার দিন হলেও কর্মজীবীদের অনেকেই বৃহস্পতিবার ও শনিবার ছুটি নিয়েছেন। এর ফলে চট্টগ্রামে এবার ঈদযাত্রা বলতে গেলে শুরু হয়েছে ২৬ মার্চের সকাল থেকেই। তবে মূল যাত্রা অর্থাৎ দলে দলে বাড়ি ফিরে যাওয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাত থেকে।

চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গত ২৪ মার্চ। ট্রেনের অগ্রিম টিকেটের যাত্রী পরিবহনের মধ্য দিয়ে এ ঈদযাত্রা শুরু হয়। তবে শুরুর দিন থেকে তিন দিন  চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের তেমন জটলা ছিল না।

ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ট্রেনে করে ১৫ হাজার যাত্রী তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন জানিয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ‘শুরুর দিকে ভিড় কম থাকলেও টানা বন্ধ শুরু হওয়ার পর চাপ বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষে সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে। বিশেষ ট্রেন চলছে।

যাত্রীর চাপ আছে, তবে এবার অস্বস্তিকর পরিবেশ নেই।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৪ মার্চ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ৩১ মার্চ বিক্রি করা হবে ফিরতি যাত্রার ১ ও ২ এপ্রিলের টিকেট।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসংখ্যা প্রায় পৌনে এক কোটি। এর বড় অংশ কর্মস্থলের কারণে চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করেন। চট্টগ্রাম বন্দর, সিইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেডসহ বিভিন্ন কল-কারখানায় কর্মরত এসব শ্রমিক চট্টগ্রামের বাইরের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। আজ শুক্রবার থেকে এসব শ্রমিকদের বড় অংশ চট্টগ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন।

চট্টগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশনে চাঁদপুরগামী যাত্রী মোবারক জমাদ্দার জানান, তিনি দুই বাচ্চা ও স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন ঈদ করতে। আগেই অনলাইনে টিকিট কেটেছেন কোনো হয়রানি ছাড়াই। নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেনে বলে তিনি আশা করছেন। 

সকালে ঢাকামুখী ট্রেনের যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিক সময়ে প্ল্যাটফরমে ট্রেন পেয়েছি। ঝামেলা ছাড়াই ট্রেনে উঠেছি। স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও কোনো ধরনের হয়রানি বা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।’ 

চট্টগ্রাম স্টেশনে কুমিল্লাগামী যাত্রী হোসনে আরা জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন। ট্রেনের টিকিট পেতে কোনো কষ্ট হয়নি। ট্রেন ঠিক সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে দূরপাল্লার বাসগুলোতে চাপ বেড়েছে। চট্টগ্রাম থেকে গড়ে প্রতিদিন ৩০ হাজারেরও বেশি যাত্রী পরিবহণ করছে বিভিন্ন গন্তব্যের বাসগুলো। নগরীর কদমতলী, অলংকার, বিআরটিসি, স্টেশন রোড, একে খান, দামপাড়াসহ প্রতিটি বাস স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও কোন ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যের বাস পাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে বিআরটিএ অভিযান পরিচালনা করছে, এতে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ সহযোগিতা করছে। 

বিআরটিএ চট্টগ্রাম আদালত- ১১ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঈদযাত্রায় যাত্রীরা যাতে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন এবং কোনো পরিবহণ যাতে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে সে ব্যাপারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট জানান। 

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, ‘মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়িতে যেতে পারেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধমূলক ঘটনা বা বিড়ম্বনার শিকার না হন, সেজন্য আমরা রমজানের শুরুতেই প্ল্যান করেছি। রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনালগুলোতে আমাদের সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশও নজরদারিতে রেখেছে।’