শিরোনাম
// মো. আয়নাল হক //
রাজশাহী, ২৯ মার্চ, ২০২৫ (বাসস) : শহরজুড়ে সবুজের সমারোহে সমৃদ্ধ রাজশাহী মহানগরীর সবুজায়ন প্রকল্প দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
প্রশস্ত রাস্তাঘাট, রাতের বেলায় নজরকাড়া রাস্তার আলো, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সবুজ গাছপালা ও কারুশিল্প দিয়ে সজ্জিত রাস্তার বিভাজক এবং উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা শহরটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
শহরজুড়ে সড়ক দ্বীপগুলোতে আলঙ্কারিক ও শোভাময় ফুলের গাছ রোপণ করে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হয়েছে। রাতে আলো ঝলমলে প্রজাপতি সড়কের দৃশ্য পথচারীদের অবাক করছে।
এছাড়া ৩৬ দশমিক ৭২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি ৫৩ দশমিক ২৯ কিলোমিটার রাস্তা কংক্রিট করা হয়েছে। ৪ দশমিক ৩২ কিলোমিটার নতুন রাস্তায় কার্পেটিং এবং ১ দশমিক ৪২ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে।
শহরটি এখন একটি বিশাল পার্কের মতো দেখাচ্ছে। একটি মহানগরকে কীভাবে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখা যায়, এর একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজশাহী।
শহরজুড়ে রাস্তার ধারে কৃষ্ণচূড়া ও জারুল ফুলের সমারোহ যেকোনো দর্শনার্থীর কাছে উপভোগ্য ও বিস্ময়কর। সবুজের সমারোহ দর্শনার্থীরা উপভোগ করলেও রাজশাহীর বাসিন্দারা গ্রীষ্ম মৌসুমে লালচে-বেগুনি রঙের ফুল দেখতে অভ্যস্ত।
রাজশাহী মহানগরীর সবুজায়ন ‘জিরো সয়েল’ প্রকল্পের চূড়ান্ত ফল। শুষ্ক মৌসুমে নিকটবর্তী পদ্মা নদী থেকে উড়ে আসা ধুলো প্রতিরোধে ২০০৪ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, শহরের সমস্ত খোলা জায়গা বিভিন্ন ধরনের গাছ ও ঘাস লাগানো হয়েছে, যাতে উদ্ভিদ ধুলো শোষণ করতে পারে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি স্কুল ও কলেজগুলোতে ফল ও ফুলের ৫০০ টিরও বেশি চারা বিতরণ করেছে। যাতে শিক্ষার্থীরা সবুজায়ন সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়াও রাসিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুটপাত লাল ও কালো টাইলস দিয়ে সুসজ্জিত করেছে।
সবুজায়নের এই উদ্যোগটি বিএনপি মনোনীত রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু শুরু করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে মিজানুর রহমান বলেন, তারা এই শহরের উন্নতির জন্য কাজ করছেন, তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়।
বর্তমান ড্রেন ও পয়ঃনিষ্কাশন ক্ষমতা সম্পর্কিত সমস্যাগুলো দূর হয়েছে। ড্রেনের নীচ থেকে পলি অপসারণের পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সমস্ত কালভার্ট প্রশস্ত করা হয়েছে।
সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, শহরে একটি কার্যকর এবং স্থায়ী পানি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সামগ্রিক পরিবেশগত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস রাজশাহী শহরকে সুন্দর করে তোলার জন্য নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি সিটি কর্পোরেশনকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণের পরামর্শ দেন। যাতে নতুন সম্প্রসারিত এলাকাগুলো একইভাবে পরিচালিত হয়।
মাস্টারপ্ল্যানে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন- শিল্প এলাকা, আবাসিক অঞ্চল, খেলার মাঠ ও পার্কের জন্য সঠিক ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা। বর্তমানে শহরে ৭০ একরেরও বেশি জমিজুড়ে কমপক্ষে পাঁচটি পার্ক রয়েছে।