বাসস
  ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:৩৬

কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল

ছবি : বাসস

কক্সবাজার, ২ এপ্রিল, ২০২৫ (বাসস) : ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে। সৈকত ও শহর এবং ইনানী বিচ এলাকায় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস ও কটেজের কোনো কক্ষ এখন খালি নাই।

ঈদের ছুটির তৃতীয় দিন সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায় হাজার-হাজার পর্যটক সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ উপভোগ করছেন।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। পর্যটকদের সচেতন করতে সৈকতসহ বিভিন্ন স্থানে সতর্কতা ও নির্দেশনামূলক একাধিক সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। চালু আছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি করা মুঠোফোন অ্যাপ ‘ভ্রমণিক’।

ডিসি বলেন, নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত, ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য পর্যটকসহ সর্বসাধারণ অ্যাপটি কাজে লাগাতে পারেন। অ্যাপে হোটেল কক্ষ, লোকাল যানবাহন, গণপরিবহনের টিকিট ক্রয়সহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়।

বিভিন্ন হোটেল মালিকেরা বলছেন, আগামী শনিবার পর্যন্ত ঈদের ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে। ইতিমধ্যে ৫ শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট গেস্টহাউসের ৯৮ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এসব হোটেল, গেস্টহাউস, রিসোর্টগুলোর দৈনিক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৮৭ হাজার। এতো পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা।

কক্সবাজার হোটেল সি প্যালেসের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের হোটেলটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন। বেশির সময়ই তাদের হোটেল কর্পোরেট বুকিং আগাম হয়ে যায়। এখন ঈদের এই ছুটিতেও হোটেল বুক্ড।

সরেজমিন দেখা যায়, সমুদ্রে নেমে কোনো পর্যটক নিখোঁজ হয়ে গেলে উদ্ধার তৎপরতার জন্য নিয়োজিত রয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি সেফ লাইফ গার্ডের প্রশিক্ষিত কর্মী। বালুচরে স্থাপিত কয়েকটি চৌকিতে বসে তারা সমুদ্রে গোসলে নামা পর্যটকদের ওপর নজর রাখছেন। ভাটার সময় নির্দেশনা অমান্য করে যারা সমুদ্রে গোসলে নামেন, বাঁশি বাজিয়ে তাদের তুলে আনার চেষ্টা চালান প্রশিক্ষিত কর্মীরা।

কক্সবাজার সুগন্ধা, লাবনী বিচে সমুদ্রে গোসল সেরে হাজারো পর্যটক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক টমটম, অটোরিকশা কিংবা খোলা জিপগাড়িতে চড়ে ছুটে যান ৮০ কিলোমিটারের কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দিকে, ইনানী বিচে।

মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে আছে দরিয়ানগর পর্যটনপল্লী, আকাশে ওড়ার প্যারাসেইলিং, হিমছড়ি ঝর্ণা, পাথুরে সৈকত ইনানী ও পাটোয়ারটেক এবং সর্বশেষ প্রান্তে টেকনাফ জিরো পয়েন্ট সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক।

অনেক পর্যটক দরিয়ারনগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকতে গিয়ে গোসলে নামেন। এসব এলাকায় এখনো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে বলে জানান অনেক পর্যটক।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কুমিল্লা শহর থেকে ঘুরতে আসা সৈয়দা আইরিন আফরিন জেসি বলেন, স্বামী, দুই সন্তান, শাশুড়ী, ছোটভাইকে নিয়ে আজ সকালে তারা কক্সবাজার পৌঁছান। বিশেষ করে বাচ্চারা ভীষণ খুশী। তারা আগে থেকেই হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইজে রুম বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন। দুইদিন থাকবেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত উপভোগে। তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকত উপভোগের পাশাপাশি এখানকার রান্না করা বিভিন্ন রকম শুঁটকি, আচার ও বার্মিজ জিনিসপত্র ক্রয় একটা বাড়তি আকর্ষণ। জেসি বলেন, পর্যটকদের আগমনে এখন টইটুম্বুর পুরো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকা। ভালোই লাগছে, একটা উৎসব উৎসব ভাব বিরাজ করছে এখানে।