শিরোনাম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ৩ এপ্রিল, ২০২৫ (বাসস) : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস) আজ বৃহস্পতিবার তার ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে জাবিসাস সত্য, সততা ও নির্ভীক সাংবাদিকতা করে আসছে।
১৯৭২ সালের ৩ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্যাম্পাস-ভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত জাবিসাস শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্যান্য অংশীদারদের অধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাস নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবতা তুলে ধরে নীতিগত সাংবাদিকতা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)-এ অবাধ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
জাবিসাস ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক তৈরি করছে, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অসাধারণ দক্ষতা ও মুনশিয়ানা প্রদর্শন করেছে।
কয়েক দশক ধরে, জাবিসাস একাডেমিক উন্নয়ন থেকে শুরু করে ছাত্র আন্দোলন পর্যন্ত ক্যাম্পাস বিষয়ক প্রতিবেদনের অগ্রভাগে রয়েছে।
সাবেক সদস্যরা তাদের পেশাগত কর্মজীবনে জাবিসাস-এ তাদের সময়কে গঠনমূলক হিসেবে স্মরণ করেন এবং দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিক গড়ে তুলতে সংগঠনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
জাবিসাস-এর সাবেক সভাপতি মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘জাবিসাস-এ আমাদের যাত্রা শুধুমাত্র সাংবাদিকতারই ছিল না, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু ছিল। এটি ছিল নীতিগত সাংবাদিকতার উপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর ভিত্তি।’
তিনি বর্তমানে জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এ কর্মরত আছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘এই সমিতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অংশীদারদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য, সুবিধার চেয়ে সত্যকে অগ্রাধিকার দিতে শিখিয়েছে এবং সেই শিক্ষা আমাদের পাথেয় হয়ে আছে।’
তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে জাবিসাস-এর বর্তমান সভাপতি মেহেদী মামুন বলেন, ‘আমরা আমাদের পূর্বসূরীদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছি। আমরা এমন এক যুগে আছি, যেখানে বিভ্রান্তি বা ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বাস্তব পরিস্থিতিকে ধরে রাখার জন্য ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
এই উত্তরাধিকার সত্ত্বেও, এই যাত্রা বাধামুক্ত হয়নি। জাবিসাস সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ থেকে শুরু করে ক্যাম্পাস-ভিত্তিক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হুমকি পর্যন্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
যাইহোক, সদস্যরা প্রমাণ করেছেন যে, কলম তরবারির চেয়েও শক্তিশালী।
গত বছরের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বেশ কয়েকজন সদস্য গুলিবিদ্ধ হন, পুলিশের দ্বারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন ও আহত হন।
সৈয়দ শহীদুল হক মঞ্জু স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা জেইউসিএসইউ ভবনকে আমাদের অফিস হিসেবে ব্যবহার করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের হাতে লেখা সংবাদ বহন করার জন্য একটি মাইক্রোবাস সরবরাহ করেছিল, যাতে মিডিয়া আউটলেটগুলোতে পৌঁছানো যায়।’
সৈয়দ শহীদুল হক মঞ্জু জাবিসাস-এর প্রাক্তন সভাপতি (১৯৮০) এবং ‘নিউ নেশন’ ও ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা।
নতুন বছরে পদার্পণের মাধ্যমে এই সমিতি নীতিগত সাংবাদিকতার প্রতি তাদের অঙ্গীকারে অটল থাকার পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়ার আবির্ভাবের সাথে সাথে তার পরিধি প্রসারিত করছে, ঘটনা বলার নতুন কৌশল গ্রহণ করছে ও তার লক্ষ্যের প্রতি অটল রয়েছে।
জাবি উপাচার্য ও জাবিসাস-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান জাবিসাস-কে তার মাইলফলক অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘জাবিসাস আমাদের একাডেমিক ইকোসিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা সমাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে এমন দায়িত্বশীল মিডিয়া অনুশীলনকারীদের গড়ে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি প্রহরী হিসেবে কাজ করে আসছে। এটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং সম্মিলিত দায়িত্ববোধের সাথে কাজ করে।’
এই সমিতি ৫৪ বছরে পা দেওয়ার পাশাপাশি সদস্য, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জাবিসাস-এর সমৃদ্ধ ইতিহাস অক্ষুন্ন রেখেছেন।
একটি বিষয় নিশ্চিত- গত ৫৩ বছর ধরে সত্য, সাহস ও সাংবাদিকতায় সততার চেতনার প্রতীক জাবিসাস আগামী প্রজন্মের ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করে যাবে।