বাসস
  ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:৪৮

লাঙ্গলবন্দে স্নানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল

লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী পুণ্য স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। ছবি : বাসস

নারায়ণগঞ্জ, ৫ এপ্রিল, ২০২৫ (বাসস) : জেলার বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী পুণ্য স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। পাপমুক্তির আশায় সব বয়সী মানুষ অংশ নিয়েছেন এ স্নানোৎসবে। আজ রাত ২ টা ৮ মিনিটের দিকে উৎসবের লগ্ন শুরু হয়। লগ্ন শেষ হবে রোববার রাত ১২ টা ৫১ মিনিটে।

স্নানের লগ্ন শুরু হওয়ার পর থেকেই উৎসবে মেতে ওঠেন পুণ্যার্থীরা। মন্ত্র পাঠ করে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, আম্রপল্লব নিয়ে পুণ্যার্থীরা স্নানে অংশ নেন। লগ্ন শুরুর পরপরই পুণ্যার্থীদের ঢল নামে লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। পাপমোচনের বাসনায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পুণ্যার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে লাঙ্গলবন্দ। এবার ২০টি ঘাটে পুণ্যার্থীরা স্নান করছেন।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ভারত, শ্রীলংকা, নেপল ও ভূটানাসহ দেশ ও বিদেশ থেকে ব্যাপক পুণ্যার্থীরা এ স্নানোৎসবে অংশ নিয়েছেন। এদিকে লাঙ্গলবন্দে স্নানোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদন করতে তিন স্তরের নিম্নপাত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। এছাড়াও দুপুরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার মহাঅষ্টমী স্নানোৎসব পরিদর্শন করেন।

গতকাল সকাল থেকেই নারী-পুরুষ পুণ্যার্থীরা সড়ক পথ ও নৌপথে স্নানে অংশ নিতে আসেন। লগ্ন শুরু হওয়ার পর থেকেই পুণ্যার্থীরা ললিত সাধুর ঘাট, অন্নপূর্ণা মন্দিরঘাট, নাসিম ওসমানঘাট, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির রাজঘাট, কালীগঞ্জ ঘাট, মাকরী সাধুর শান্তি আশ্রমঘাট, মহাত্মা গান্ধীর শশ্মানঘাট, ভদ্রেশ্বরী কালীমন্দির ঘাট, জয়কালী মন্দিরঘাট, রক্ষাকালী মন্দিরঘাট, পাষাণকালী মন্দিরঘাট, স্বামী দ্বিগিজয় ব্রহ্মচারীর আশ্রম, চর শ্রীরামপুর ব্রহ্মাঘাট, দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি ঘাট, মীরকুণ্ডি পরেশ সাধুঘাট, সাবদী রক্ষাকালী ঘাট, তাজপুর-জহরপুর মুনি ঋষিপাড়া ঘাট ও লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমঘাটে স্নানে আসেন। ঘাটগুলোতে পুরোহিতের কাছে মন্ত্রপাঠ করে তারা স্নানে নেমে পড়েন।

লাঙ্গলবন্দের মন্দিরগুলোতে চলছে পূজা-অর্চনা ও ভক্তিমূলক গান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো থেকে পুণ্যার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে খিচুড়ি, দুধ, পানিসহ বিভিন্ন খাবার। অষ্টমীর স্নান উপলক্ষে লাঙ্গলবন্দ এলাকাজুড়ে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

পুণ্যার্থী সেতু রানী বলেন, তীর্থের জন্য মহাঅষ্টমী স্নানে অংশ নিতে পরিবারের সবাইকে নিয়েএসেছি। পাপমোচনে ও আমরা সবাই যাতে ভালো থাকতে পারি, ব্রহ্মার কাছে সেই প্রার্থনা করেছি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,স্নান এলাকায়  চিকিৎসা সেবায় ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র, ১৬০টি শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি সরবারাহ, ও পুণার্থীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় হাজার সদস্য। স্নান এলাকায় টহলে থাকবে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, ব্রহ্মপুত্র নদে টহলে থাকবে নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড। ৪৭১ জন আনসার, নৌ-পুলিশের ৬৪ জন,  কোস্ট গার্ড ও হাইওয়ে পুলিশের একটি করে টিম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও স্নান এলাকার নিরাপত্তায় ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। পুণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ১০ শয্যাবিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালসহ পাঁচটি মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু রয়েছে।

স্নান উৎসব উদযাপন করতে ফ্রন্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি বলেন, স্নানোৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পুণ্যার্থীরা এসেছেন। পুণ্যার্থীদের কাপড় বদলানোর জায়গা, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহামস জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, নিরাপত্তায় এবার আমাদের সঙ্গে সেনাবাহিনী রয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ম্যাপ টানিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশা করি এবার স্নানোৎসর। আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারবে।