শিরোনাম
ঢাকা, ২৫ জুলাই, ২০২৩ (বাসস): ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত ৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৯ স্থাপনাকে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার কর্পোরেশনের সেগুনবাগিচা, শাহবাগ, টিএন্ডটি কলোনি, নয়া পল্টন, আজিমপুর, সূত্রাপুর, মান্ডা ও আমিনবাগ এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এক নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. মনজুরুল হক ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুনবাগিচা ও শাহবাগ এলাকায় ৫৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় ‘ইস্টার্ন প্যানেরোমা’ ও ‘ইস্টার্ন ড্রিম’ নামক ২টি নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ভবন দুটির ম্যানেজার পলাশকে ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড আরোপ ও আদায় করেন।
দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর-আল-নাসিফ টিএন্ডটি কলোনি এলাকায় ৫২টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা পাননি।
এছাড়াও দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ নয়া পল্টন এলাকায় ৩৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা পায়নি।
তিন নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তায়েব-উর-রহমান ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চায়না গলিতে ৮৯টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় মাস্টার্স বিল্ডার্স লিমিটেডের নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্মাণাধীন ভবনটির সুপারভাইজার জাহাঙ্গির আলমকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড আরোপ ও আদায় করেন। এ সময় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় ১ জনকে ৫০০ টাকা অর্থদন্ড আরোপ ও আদায় করা হয়। এছাড়াও আরো ৩টি বাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়ায় ৩ মামলায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে অঞ্চল-৩ এ মোট ৫ মামলায় ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
পাঁচ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সূত্রাপুর এলাকায় ৪৩টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। আদালত এ সময় কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা পাননি।
সাত নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওসীফ রহমান ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকায় ৩০টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। আদালত এ সময় কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা পাননি।
নয় নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনবাগ এলাকায় ৩৪টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
আজকের অভিযানে সর্বমোট ৩৩৮ বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ৯টি বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ৯ মামলায় সর্বমোট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এদিকে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ ও এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১৭টি ওয়ার্ডে ৩ দিনব্যাপী বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ চিরুনি অভিযানকালে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকালে ১৩ জন এবং বিকালে ১৩ জন মশককর্মী ব্যাপকভাবে যথাক্রমে লার্ভসাইডিং ও এডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। একইসাথে ওয়ার্ডসমূহে এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূলে বিশেষ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।