শিরোনাম
ঢাকা, ২ এপ্রিল, ২০২৫ (বাসস) : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, যাকাত-ফিৎরা, ছদাকাত আদায় করে পরিকল্পিতভাবে তা বন্টন ব্যবস্থা দারিদ্র বিমোচনের একটি উত্তম পন্থা।
আজ বুধবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগতপুর গ্রামে যাকাত ও ছদাকাত ফাউন্ডেশনের ৬ষ্ঠ বার্ষিকী উপলক্ষে ফাউন্ডেশনের আয়োজনে স্বাবলম্বীকরণের উদ্দেশ্যে দীর্ঘকালীন প্রকল্প বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
যাকাত ও ছদাকাত ফাউন্ডেশনের আহবায়ক ডা. জাবেদ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মো. কামরুজ্জামান পিয়াস ও মাসুদ ইসলামের পরিচালনায় জগতপুর সুবহা গাজী মসজিদ মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. কবির হোসেন ও মো. কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবির বাবুল, চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়েদ হোসেন, বুড়িচং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. অহিদুর রহমান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন কবির চৌধুরী, মাসুদ রানা, সুবাহ গাজী সমাজের উপদেষ্টা হাজী মো. শাহ জাহান, ইসলামি ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুল হান্নান ও হাজী আলী আক্কাস।
সচিব মো. নজরুল ইসলাম দারিদ্র বিমোচনে সমাজ থেকে যাকাত-ফিৎরা, ছদাকাত আদায় করে পরিকল্পিতভাবে স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচির উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি এলাকার রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তার অবস্থান থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন এবং বুড়িচং পৌরসভা বাস্তবায়নে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলেও আশ্বাস দেন।
প্রধান বক্তা পিএসসির সচিব ড. সানোয়ার জাহান ভুঁইয়া বলেন, যাকাত ও ছদাকাত ফাউন্ডেশনের ইসলামী অর্থনীতি বাস্তবায়নের এই মডেলটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি এই গ্রামের অধিবাসী তার পরলোকগত তিন সহপাঠী কৃষিবিজ্ঞানী ড. কামরুল হাসান কামাল, আহমদ শরীফ বিএসসি বিএড (প্রথম শ্রেণি) ও মোহাম্মদ শরীফের স্মৃতিচারণ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এ বছর সুবহাগাজী সমাজ ও শুভাকাঙ্খিদের থেকে যাকাত-ফিৎরা ও সাধারণ দান (ছাদাকা) হিসেবে সংগৃহীত ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিভিন্ন ধরনের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প নির্বাচিত দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যার মধ্যে ১২ টি সেলাই মেশিন, ২ জন ক্যান্সার ও ১ জন কিডনি আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা, তিনটি পরিবারকে ঘর মেরামত, ১ জনকে সাবমার্সিবল কল, ২ জনকে গবাদি পশুপালন, ১ জনকে প্রবাসে যেতে সহযোগিতা, ১ জনকে যানবাহন কিনতে সহায়তা, ১ জনকে গাছ কাটার আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সহায়তাসহ মোট ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।