শিরোনাম
ঢাকা, ৫ এপ্রিল, ২০২৫ (বাসস) : আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর গৃহীত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের ছুটি উদযাপন করেছেন জনগণ।
শনিবার শেষ হয়েছে নয় দিনের ঈদ ছুটি। দীর্ঘ এই ছুটিতে যথোপযুক্ত ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তা সঠিকভাবে কার্যকর করার ফলে দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এনামুল হক সাগর।
শনিবার বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ঈদ উদযাপন আরামদায়ক করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। ছুটি শেষে মানুষ নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
পুলিশের এই মুখপাত্র বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম, তাদের নিষ্ঠা, সময়োপযোগী ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের কারণেই এই সাফল্য এসেছে। দেশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কারণ আমাদের সংশ্লিষ্টদের সকলের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও যথাযথ সমন্বয় ছিল।
তিনি বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছুটির দিনগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথে কৌশলগত চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের আগে পুলিশ বাড়িগামী যাত্রী, চালক, পরিবহন মালিক ও অন্যান্য অংশীদারদের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করে।
এ বিষয়ে এনামুল হক সাগর বলেন, এই নির্দেশিকা ঢাকায় আসা-যাওয়া যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অনেক সাহায্য করেছে। এর ফলে দেশে আগের বছরের তুলনায় ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনা কম ঘটেছে।
তিনি বলেন, ছুটির দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কিছু লোক নিহত ও আহত হয়েছেন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঈদের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিসংখ্যান জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যেই বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
পুলিশ সদর দপ্তর ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পৃথক নির্দেশিকা জারি করেছে।
রাজধানীর দক্ষিণ দানিয়ার বাসিন্দা মুসলেহউদ্দিন মাসুদ যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে বাসে করে ঢাকায় আসেন।
তিনি বাসসকে বলেন, ‘আমাদের বাস সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরপরই কিছু সেনা সদস্য বাসে উঠে সকল যাত্রীর খোঁজখবর নেন।’
মাসুদ বলেন, সেনা সদস্যরা চালককে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে এবং ডাকাতি রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাউন্টার ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে গাড়িতে যাত্রী না তোলার নির্দেশনা দেন।
রাজধানীর কাজলা এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক বাসসকে বলেন, সরকারের গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তারা খুশি, যা তাদেরকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে সাহায্য করেছে।
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ৪ এপ্রিলও তাদের এলাকায় টহল দিয়েছেন। তারা হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।