বাসস
  ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১:৪৮

মিয়ানমারের আশ্বাসের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করা উচিত : বিশেষজ্ঞ অভিমত

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৫ এপ্রিল, ২০২৫(বাসস) : পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা আজ বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দ্রুত পরবর্তী আলোচনা শুরু করা উচিত কারণ মিয়ানমার নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখেরও বেশি জাতিগত সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে প্রথম দফায় ১ লাখ ৮০ হাজার জন প্রত্যাবাসনের যোগ্য বিবেচিত হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক এবং বৈদেশিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বাসসকে বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ তবে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করা উচিত।’

তবে রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অস্থিরতার পটভূমিতে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য ঢাকার ‘সকল বিকল্প’ চেষ্টা করা উচিত এবং ‘আমাদের আশা হারানো উচিত নয়’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হকও এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি বলে মনে করেন যে, মিয়ানমার প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রত্যাবাসনের জন্য ‘যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকার ইস্যু বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলিলুর রহমান থান সোয়ের উপস্থিতিতে এই ঘোষণার একদিন পর তারা এ মন্তব্য করেন।

থাইল্যান্ডের রাজধানীতে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও টুইটারকে এ কথা বলেছেন। এই সম্মেলনে মিয়ানমারের সরকার প্রধান মিন অং হ্লাইংও যোগ দেন। 

মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে যে, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত ৮ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা থেকে প্রথম দফায় তারা ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার যোগ্য বলে চিহ্নিত করেছে।’

এর আগে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে খলিলুর রহমান বলেছিলেন, ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে এবং আরো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তাই আমরা প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছি। এসময় টিভি ক্যামেরার সামনে থান সোয়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে মাথা নাড়ছিলেন।

রহমান বলেন, ‘আমরা যে মূল তালিকাটি দিয়েছিলাম, তার বাকি সংখ্যার জন্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করা হবে’।

একই গণমাধ্যমে উপস্থিত হয়ে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি, যাচাইকরণের পরে কীভাবে এই লোকদের ফিরিয়ে আনা যায় এ ব্যাপারে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।’ 

২০১৭ সালে নৃশংস সামরিক অভিযানের ফলে ১৩ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজারে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে গত বছর সহিংসতার কারণে প্রায় ৭০,০০০ রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে এসেছে।

ভূমিকম্প কবলিত মিয়ানমারে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সহায়তায় বাংলাদেশ সেনা সদস্য পাঠিয়েছে এবং বিমানবাহিনীর বিমানে জরুরি ত্রাণের চালান পাঠিয়েছে এবং ড. ইউনূসের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে বিমান বাহিনীর তিনটি পরিবহন বিমানের মাধ্যমে সহায্য পণ্য ও ওষুধের দ্বিতীয় চালান পাঠানো হয়।

একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, মিয়ানমার সরকার ‘প্রায় এক দশক ধরে আমাদের পথে অনেক চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়ে দেওয়া সত্ত্বেও ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মিয়ানমারে সহায়তা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, যা ঢাকার পক্ষে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।