বাসস
  ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ২৩:৫১

পাঁচ জেলায় পরিবেশ দূষণরোধে মোবাইল কোর্ট, ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৮ এপ্রিল, ২০২৫ (বাসস) : বরগুনা, নোয়াখালী, মানিকগঞ্জ, রংপুর ও লক্ষ্মীপুরে পরিবেশ দূষণরোধে  ৫টি মোবাইল কোর্ট অভিযান হয়। একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ ১৪টি মামলায় ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এ ছাড়া ১০টি ইটভাটার চিমনি ও কাঁচা ইট ভেঙে ফেলা হয়। ১টি ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

আজ এ অভিযানে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনের দায়ে ৬টি মামলায় ১৫ হাজার ৫ শত  টাকা জরিমানা আদায় হয়। শান্তিনগর ও শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনের দায়ে ২টি মোবাইল কোর্ট অভিযান হয়। ১টি মামলায় ১ হাজার  টাকা জরিমানা আদায় ও ২২ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়। সুপারশপসহ বিভিন্ন দোকানদার ও জনগণকে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।

আজ মঙ্গলবার পুরানা পল্টনে নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা বায়ু দূষণের দায়ে ১টি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় হয়। ধানমন্ডিতে শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে ৫টি মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সুত্র জানায়, নির্দেশনা মোতাবেক পরিবেশ অধিদপ্তর চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে আজ ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৭৬২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। বায়ু ও শব্দ দূষণ, নিষিদ্ধ পলিথিন, ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে এই অভিযান চালানো হয়। এই সময়কালে ১ হাজার ৬২৬টি মামলায় মোট তেইশ কোটি ছাপান্ন লক্ষ বাহাত্তর হাজার একশত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে ৪৩৪টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে অনেকগুলোর চিমনি ও কাঁচা ইট ভেঙে দেওয়া হয়। ২০৫টি ইটভাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ১২৪টি ভাটার কাঁচা ইট ধ্বংস এবং একটি ভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭টি ট্রাকে করে সীসা ও ব্যাটারী গলানোর যন্ত্রপাতি জব্দ করে কারখানাগুলো বন্ধ করা হয়। গতবছরের ৩ নভেম্বর  থেকে আজ পর্যন্ত নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে ৩৬৬টি মোবাইল কোর্ট অভিযান হয়। এতে ৬৮২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে ৫৫ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দ করা হয় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭১ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন। ১২টি পলিথিন কারখানার সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও সিলগালা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে।