বাসস
  ২৫ মার্চ ২০২৫, ২২:৪৩
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৫, ০০:২১

ভারতের মাঠ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ

ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৫ (বাসস) : ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে জয়ের প্রত্যাশা জাগিয়ে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ে সকলের প্রশংসা ঠিকই কুড়িয়েছে হামজা-তপুরা। শেষ পর্যন্ত গোলশুন্য ড্রয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সফরকারী বাংলাদেশকে। কিন্তু শিলংয়েল জওহরলার নেহরু স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এমন লড়াইয়ে নতুন কিছুর বার্তাই হয়তো দিতে পেরেছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই ম্যাচের মাধ্যমে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে ইংলিশ ফুটবলার হামজা চৌধুরীর। যিনি পুরো মাঠেই ছিলেন দারুন উজ্জ্বল। যদিও বিপরীতে ভারতের তারকা ফুটবলার সুনীল ছেত্রী নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি। কয়েক দফা বলের লাগাল পাননি, আবার পেলেও ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। তাই ভারতীয় কোচ মার্কোস ৮১ মিনিটে সুনীলকে তুলে নেন।

ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটা মিস করেছে বাংলাদেশ একেবারে প্রথম মিনিটেই। ভারতীয় গোলরক্ষক বিশাল কেইত বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড জনির পায়ে বল তুলে দেন।

জনি একেবারে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও সাইড জালে শট নেন। কিছুক্ষণ পর হামজার নেওয়া এক কর্নারে ভারতীয় গোলরক্ষক তালুবন্দী করলেও শট নেওয়ার সময় বল বাধাগ্রস্থ হয়ে আবার ভারতের পোস্টের দিকে যায়। হৃদয়ের শট ভারতীয় ডিফেন্ডার গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন। ২২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক তপু বর্মণ। ফলে আরেক ডিফেন্ডার রহমত মিয়া আর্মব্যান্ড নিয়ে মাঠে নামেন।

৩১ মিনিটে ক্রস থেকে হেড করেছিলেন ভারতীয় স্ট্রাইকার উদান্ত। সেটি রুখে দেন মিতুল। কিন্তু ফিরতি বলে আবারো শট নেন ফারুক। কিন্তু এবারও বাংলাদেশকে রক্ষা করেন মিতুল। 

৩৭ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন রাকিব। কিন্তু বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ডের শট সহজেই রুখে দেন কেইত। ৪১ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি জনি। প্রথমার্ধে অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়েছিল দুই মিনিট। কিন্তু এসময়ও কোন দল সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। সুস্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করেছে বাংলাদেশ। 

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য নিজেদের ভালই প্রমান করেছে ভারত। ৫৫ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ক্রসে সুনীল ছেত্রী মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন, নাহলে তখনই হয়তো এগিয়ে যেতে পারতো স্বাগতিকরা। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভারত বেশ কয়েকটি কর্ণার আদায় করেও সুবিধা করতে পারেনি। ৬০ মিনিটে বাংলাদেশ দলে দুটি পরিবর্তণ করেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।

শাহরিয়ার ইমন ও জনির পরিবর্তে মাঠে নামেন চন্দন রায় ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। ৭৫ মিনিটে রাকিবের থ্রু বলে ফাহিম সুযোগ নষ্ট করেন। দুই মিনিটের মধ্যে আরো দুই খেলোয়াড় পরিবর্তণ করেও দলের ভাগ্য পরিবর্তণ করতে পারেননি কাবরেরা।

বাংলাদেশের একাদশ: মিতুল মারমা, তপু বর্মণ, তারিক কাজী, শাকিল তপু, সাদ উদ্দিন, মোহাম্মদ হৃদয়, মজিবর রহমান জনি, হামজা চৌধুরী, রাকিব হোসেন, শেখ মোরছালিন, শাহরিয়ার ইমন।

ভারতের একাদশ : ভিশাল কাইথ (গোলরক্ষক), রাহুল ভেকে, শুভাশীষ বোস, সন্দেশ ঝিংগান, লিস্টন কোলাচো, ফারুক চৌধুরী, উদান্ত সিং, সুনীল ছেত্রী, আয়ুশ ছেত্রী, আপুয়িয়া, বোরিস সিং।