শিরোনাম
ঢাকা, ২ এপ্রিল ২০২৫ (বাসস) : ১৯৭৫ সালের ২১ জুন লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভেসেছিল পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঐতিহাসিক সেই জয়ের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান ঘটা করে উদযাপন করতে যাচ্ছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট।
অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েডের হাতে তৎকালীন প্রুডেন্সিয়াল কাপের ট্রফি তুলে ধরার ছবিটি এখনো ক্রিকেট বিশ্বের কাছে জ্বলজ্বলে স্মৃতি হয়ে আছে। ফেবারিট অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছিল। ম্যাচ জয়ী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে লয়েড ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৭ রানে জয়ী হয়েছিল ক্যারিবীয়রা।
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডাহরিং বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা এই মুহূর্ত উদযাপন করতে চাই। নির্দিষ্ট সময়ে এ সম্পর্কে সকলকে বিস্তারিত জানানো হবে।’
আগামী ২৫ জুন কিংস্টোন ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বার্বাডোজে টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে এই স্মারক উদযাপন অনুষ্ঠিত হবে বল ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজর ক্রিকেট লিজেন্ড মাইকেল হোল্ডিং বলেছেন, ‘এটা দারুন একটি পরিকল্পনা। আমি এখনো বিস্তারিত কিছু জানিনা। তবে এই স্মৃতিকে ধরে রাখার যে আয়োজন করা হচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
১৯৭৫ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন না হোল্ডিং। কিন্তু ১৯৭৯ সালে পরের বিশ্বকাপেই খেলেছেন। ঐ আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় শিরোপা জয় করে। ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে পরাজিত হয়েছিল ক্যারিবীয়রা। এই বিশ্বকাপেরও সদস্য ছিলেন হোল্ডিং।
৭১ বছর বয়সী হোল্ডিং বলেছেন, এই কৃতিত্বের ভাগীদার সকলেই। আমাদের নিজেদের ইতিহাস আমাদেরকেই লিখতে হবে। এভাবেই বিজয় উদযাপন করতে হবে।
ক্যারিবীয়ান ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশ্বকাপ জয় অন্যতম সেরা একটি অর্জণ ছিল। এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমান দেয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আরো এক দশক তাদের এই রাজত্ব বজায় ছিল। এরপর ধীরে ধীরে হারাতে থাকে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের ঐতিহ্য। এখনো যা পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ী দলের যে সকল সদস্য বেঁচে আছেন তার হলেন, গর্ডন গ্রীনিজ (৭৩), আলভিন কালিচরন (৭৬), রোহাসন কানহাই (৮৯), ক্লাইভ লয়েড (৮০), ভিভ রিচার্ডস (৭৩), বার্নাড জুলিয়েন (৭৫), ডেরিক মারি (৮১), ভানবার্ন হোল্ডার (৭৯), এন্ডি রবার্টস (৭৪), কলিস কিং (৭৩), ল্যান্স গিবস (৯০) ও মরিস ফস্টার (৮১)।
দুজন খেলোয়াড় মৃত্যুবরণ করেছেন। তারা হলেন রয় ফ্রেডরিকস (৫৭ বছর বয়সে ২০০০ সালে মারা যান), ও কিথ বয়েস (১৯৯৬ সালে ৫৩ বছর বয়সে মারা যান)।